লক্ষ্ণীপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচিত জনসভায় জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যাদের কারণে জেল থেকে মুক্তি, যাদের কারনে অনেকে দেশে ফিরেছেন,যাদের কারনে নির্বাচনে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন আজ তারাই তাদেরকে অস্বীকার করছেন-লজ্জা,লজ্জা ---লক্ষ্ণীপুরে আদর্শ সামাদ সরকারি উ্চচ বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার বিকালে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের আমীর আরও বলেন, ৫ আগস্ট এর পর আমরা বলছি প্রতিশোধ নিবোনা আমারা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমারা আমাদের কথা রেখেছি। কারো বিরুদ্ধে মামলা ও হামলা করিনি আমরা। চাঁদাবাজি,দখলদারির সাথে আমারা জড়িত নই। কোন অবস্থাতে দেশে যেন আবার নতুন করে ফ্যাসিজম ফিরে না আসে তাই জনগণকে গণভোটে হ্যা প্রদানে আহবান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, জনগণ যদি তাদের পবিত্র মূল্যবান ভোট দিয়ে ১১ দলীয় জোটকে নির্বাচিত করে, আমরা জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেবো না। পুরোনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়া-কামড়ি করবো না। পেছনের দিকে দৌড়াবো না; যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামী বাংলাদেশ দেখতে চাই। লক্ষ্ণীপুরে এশিয়ার বিখ্যাত মৎস্য হ্যাচারী দুর্নীতির কারনে বন্দের উপক্রম। লক্ষ্ণীপুরে মেঘনা নদী ভাঙ্ন রোধে কাজ হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশের যুবকদের বেকার অবস্থায় দেখতে চাই না। আমরা বেকারদের ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করতে চাই না।আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। তোমরা বেকার ভাতার জন্য কোনো দাবি জানাওনি। বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অপমানিত করতে চাই না। তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলবো। প্রত্যেকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেবো।” তিনি বলেন, সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সঙ্গে বলবে “আমিই বাংলাদেশ, আমায় দেখে বুঝে নাও বাংলাদেশ কী জিনিস।” সভায় তিনি লক্ষ্ণীপুর-১ আসনের শাপলা কলির প্রার্থী মাহবুব আলম, লক্ষ্ণীপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্ণীপুর-৩ আসনের প্রার্থী রেজাউল করিম এবং লক্ষ্ণীপুর-৪ আসনের প্রার্থী হাফিজ উল্যাহর হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেন। তিনি জানান, ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে ৬২ শতাংশ প্রার্থী যুবক। এটি প্রমাণ করে যে, আগামীর দেশ হবে যুবকদের বাংলাদেশ। জামায়াতের আমীর বিএনপিকে উদ্দেশ্য বলেন, “আপনারা একদিকে বলছেন মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেবেন, আরেকদিকে সেই মায়ের গায়েই হাত দিচ্ছেন। সকালের সূর্য দেখলেই বোঝা যায় সারাদিন কেমন যাবে; ভোটের আগের আবহ দেখলে বোঝা যায় নির্বাচিত হলে আগামীটা কেমন হবে।” তিনি আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি ক্ষমা করেনি। আজকেও মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন, নিজেদের কবর রচনা করবেন।” জামায়াত আমির বলেন, “দেশবাসী রাজনীতির পুরোনো বন্দোবস্ত ৫৪ বছর ধরে দেখেছে। সে বন্দোবস্তে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছে, মানুষের অধিকার হরণ করেছে, দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। চাঁদাবাজিতে জনগণ অতিষ্ঠ হয়েছে। জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকে গুলি ছোঁড়া হয়েছে। যে রাজনীতি আমার মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে, সেই রাজনীতি আর ফিরে আসুক আমরা চাই না।” জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন-জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও লক্ষ্ণীপুর-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম,এটিএম মাসুম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, ঢাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সাহেদী, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম এবং চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা ফারুক হোসাইন নুরনবী, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নাছির উদ্দীন মাহমুদ, এডভোকেট মহসিন কবীর মুরাদ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মমিন উল্যাহ পাটোয়ারী, শহর জামায়াতের আমীর এডভোকেট আবুল ফারাহ নিশানসহ প্রমুখ।