দিনাজপুরে ৬ আসনে কে হাসবে বিজয়ের শেষ হাসি?চায়ের আড্ডা থেকে পাড়া মহল্লায় সর্বত্রই একটাই গুঞ্জন দুই দলের প্রচার-প্রচারণায় মাঠ গরম। নির্বাচনের আর গুটি কয়েক দিন বাকি,দরজায় কড়া নাড়ছে নির্বাচনী হাওয়ার শেষ ঘন্টা। নাওয়া খাওয়া ভুলে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ছুটে বেড়াচ্ছেন শহর,গ্রাম,পাড়া, মহল্লা,হাটে,বাজারে। চায়ের আড্ডায়, গ্রামগঞ্জের হাট বাজার সর্বত্রই এখন নির্বাচনের আলাপচারিতায় ব্যস্ত সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি দিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। আগামী ১২ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন।বিজয়ের হাসিটা কে হাসবেন তাই নিয়ে চলছে ভোটারদের মধ্যে জল্পনা কল্পনা।দিনাজপুরে ৬ টি আসনে ৪০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২জন নিরাপত্তাহীনতা ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ায় এখন পর্যন্ত দিনাজপুর জেলায় ৩৭জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।দিনাজপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে কোন আসনে দ্বিমুখী, কোন আসনে ত্রিমুখী আবার কোন আসনে চতুর্মুখী লড়াই এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনের বিজয় অর্জিত হবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা।
দিনাজপুর ১ আসনে (বীরগঞ্জ,কাহারোল)৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম এবং জামায়াত ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকে মোঃ মতিউর রহমানের কনটেস্ট হলেও পিছিয়ে নেই অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। তবে এখন পর্যন্ত এই আসনে জামাত ইসলামের কিছূটা অনুকূলে হাওয়া বইছে, এমনটি লক্ষ্য করা গেছে। দিনাজপুর ২ আসনে (বিরল, বোচাগঞ্জ ) ৮ জন প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এবং বিদ্রোহী প্রার্থী এ কে এম বজলুর রশিদ কালুর ভোট কাটাকাটির লড়াইয়ে বাড়তি সুবিধা পেতে মরিয়া জামাত ইসলামের একেএম আফজালুল আনাম এবং জাতীয় পার্টির জুলফিকার হোসেন। তবে এই আসনে দলের থেকে ব্যক্তির ইমেজকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে ভোটাররা।
দিনাজপুর সদর ৩ আসনে ৮জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও বিএনপি থেকে দিনাজপুর পৌরসভা সাবেক মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং জামায়েত ইসলামীর মো: মাইনুল আলম এর কনটেস্ট হলেও পৌর এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম থাকলেও ইউনিয়ন গুলোতে কিছুটা মন্থর। তবে অন্যান্য দলের যেমন জাতীয় পার্টির আহমেদ শফী রুবেল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের কিবরিয়া হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির অমৃত কুমার রায়, জনতার দলের মো: রবিউল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের মো: খাইরুজ্জামান এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের লায়লা তুল বসে নেই। পরিবারের সদস্যসহ সমর্থকরা সংসার দুনিয়াদারি ভুলে গিয়ে নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। দিনাজপুর ৪ আসনে( চিড়িরবন্দর, খানসামা ) ৪জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির মো: আখতারুজ্জামান মিয়া এবং জামায়াত ইসলামীর মো: আফতাব উদ্দিন মোল্লার কনটেস্ট হলেও পিছিয়ে নেই জাতীয় পার্টির মো,:নুরুল আমিন শাহ এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আনোয়ার হোসাইন।
দিনাজপুর ৫ আসনে (পার্বতীপুর,,ফুলবাড়ী) নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন ৯ জন প্রার্থী। জামায়াতের সাথে এনসিপির জোট হওয়ায় এই আসনে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো: আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মোঃ আব্দুল কাদের চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই আসনে মোট সাতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। সাতজন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী একেএম কামরুজ্জামান, এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার আব্দুল আহাদ, জাতীয় পার্টির মোঃ নুরুল আমিন শাহ এবং বিএনপি'র দুই বিদ্রোহী প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া বাচ্চু। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হকের সাথে এনসিপি প্রার্থী ডা: আব্দুল আহাদ এর কনটেস্ট হবে বলে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেন অনেকে।দিনাজপুর ৬আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা: জখহিদ হোসেনসহ ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্যান্য দলের প্রার্থীরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর মো: আনোয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মো: রেজাউল হক, ইসলামী আন্দোলনের মো: নুর আলম সিদ্দিক এবং বাসদের মো: আব্দুল হাকিম। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী ডাক্তার জাহিদ হোসেনের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সাধারণ মানুষ।উল্লেখ্য দিনাজপুরে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৭৭হাজার ৫শত ১৬জন। পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ্য ৩৮হাজার ৫ শত ৮৩জন,নারী ভোটার ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯শত ৩০ জন। এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২জন।সিটি কর্পোরেশন, বেকারত্ব দূরীকরণ,নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, সন্ত্রাস,চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীরা নিজ নিজ মার্কা নিয়ে গ্রাম পাড়া মোল্লা ও হাট বাজারে ভোট চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরতেছেন প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা সকাল থেকে রাত অব্দি ভোটারদের কাছে ভোট চেয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাস্তা ঘাট সহ অবহেলিত দিনাজপুরের মান উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখতে পারবে তাকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় সাধারণ ভোটাররা,এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তারা। দিনাজপুর সদরে আজন প্রার্থীর মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াত ইসলামীর মো: মাইনুল আলম এবং ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের ভোটের লড়াইয়ে কে বিজয়ের শেষ হাসি হাসবে তা নিয়ে জনমনে একদিকে যেমন চলছে জল্পনা কল্পনা তেমনি রয়েছে কৌতুহল। দিনাজপুরের অন্যান্য আসনেও প্রার্থীদের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও ভোটের প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিনাজপুরে কয়েকটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় সেসব আসনে দাবার চালটা তাদের দিকে ঘুরাতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। তবে এবারের নির্বাচনে দলের চেয়ে প্রার্থীর নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নকেই বড় করে দেখছেন সাধারণ ভোটারসহ একাধিক সচেতন মহল। তবে অবাদ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের শাসনভার ন্যাস্ত হয়ে বাংলাদেশে শান্তির বাতাবরণ প্রবাহিত হোক এবং বিশ্বের দরবারে স্বাধীন সার্বভৌম এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনা পুনর্জীবিত হোক এমনটাই প্রত্যাশা সকল শ্রেণী পেশার মানুষের।