দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে

বিএনপির থেকে রুহুল আমিন ও ফেরদৌস আলমের অব্যাহতি

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) :
| আপডেট: ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম | প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
বিএনপির থেকে রুহুল আমিন ও ফেরদৌস আলমের অব্যাহতি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির সকল দলীয় পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন এবং তাহিরপুর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ফেরদৌস আলম। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) তাহিরপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে এ ঘোষণা দেন তারা। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তারা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনে নিহত সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। রুহুল আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রায় ২৫ বছর আগে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মামলা, হামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়ে পারিবারিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গণতন্ত্র ও একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নে রাজনীতি করে এসেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও সেই আন্দোলনের চেতনা আজ ভূলুণ্ঠিত। তাহিরপুর উপজেলায় ৫ আগস্টের পর লুটপাট, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে, যেখানে নিজ দলের শীর্ষ নেতাদের সম্পৃক্ততা আমরা প্রত্যক্ষ করছি।” সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা হয়রানির শিকার হলেও এক শ্রেণির অর্থশালী নেতা নতুন লুটপাটকারীদের সঙ্গে মিলে ব্যবসা করছে। অথচ লুটপাট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মুখে বড় কথা বলা হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের সফলতাকে বিএনপি যথাযথভাবে স্বীকার করছে না, রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত উপেক্ষিত হচ্ছে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে দলীয় এমপি প্রার্থী মনোনয়নে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের পর দলের অনেক নেতা চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেও দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তাহিরপুরে যাদুকাটা ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন, সীমান্ত শুল্কস্টেশন দখল করে চাঁদা আদায় এবং হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ নির্বিচারে লুট করা হচ্ছে। তারা বলেন, “হাওর রক্ষার নামে হাওরেই চলছে লুটপাট। মৎস্য সম্পদ, বনভূমি ও কান্দার মাটি পর্যন্ত উজাড় হয়ে যাচ্ছে-কিন্তু দলীয়ভাবে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।” সবশেষে বিবেক ও দেশপ্রেমের দায় থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে তারা বলেন, “আমাদের চলে যাওয়ায় দলের ক্ষতি হবে না, তবে প্রতিবাদটুকু জানিয়ে গেলাম।” তারা সহকর্মী ও এলাকাবাসীর কাছে অনিচ্ছাকৃত কোনো কষ্টের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সামাজিক সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে