আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬-কে কেন্দ্র করে চাঁদপুর জেলায় কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। জেলার মোট ৭০৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪২২টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোমবার কুমিল্লা সেনানিবাসের কমান্ডিং অফিসার মেজর জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা চাঁদপুর সফর করেন। এ সময় তিনি চাঁদপুর সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন ও জেলা প্রশাসন সহ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে ৭০৬টি ভোটকেন্দ্র ও ৪ হাজার ২৭৬টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা ভিত্তিতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা হলো- ফরিদগঞ্জে ১১৮টি, মতলব দক্ষিণে ৫৭টি, মতলব উত্তরে ৯৮টি, কচুয়ায় ১১০টি, চাঁদপুর সদরে ১৩৩টি, হাজীগঞ্জে ৯০টি, হাইমচরে ৩২টি এবং শাহরাস্তিতে ৬৮টি। নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার আটটি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২১ বীর ব্যাটালিয়ন ও ১৮ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের প্রায় ১ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। একইসঙ্গে প্রতিটি উপজেলায় দুইটি করে বিজিবি প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে, যেখানে প্রতি প্লাটুনে ১৮ থেকে ২০ জন সদস্য থাকবেন। এছাড়া ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে ৮ হাজার ৫২০ জন পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য এবং ১ হাজার ৪১২ জন গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিকভাবে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় টহলে নিয়োজিত থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও মোবাইল টিমের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসন হলো- চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন নং-২৬০, চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ-উত্তর) আসন নং-২৬১, চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসন নং-২৬২, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন নং-২৬৩ এবং চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ- শাহরাস্তি) আসন নং-২৬৪। জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলার পাঁচটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৩১ হাজার ২৩৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ২৯ হাজার ৮৭৪ জন, পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ১ হাজার ৬৪৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১১ জন। এবারের নির্বাচনে মোট ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, প্রতিটি কক্ষে একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও দুইজন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। সে অনুযায়ী জেলায় মোট ৭০৬ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ৪ হাজার ২৬০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) লুৎফুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশের সদস্যদের শরীরে বডি অন ক্যামেরা থাকবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।