ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সময় বাড়িয়ে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো পূর্বের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা এদিন প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।
এই মামলার তদন্তে বিলম্বের পেছনে রয়েছে আগের তদন্ত নিয়ে বাদীপক্ষের অসন্তোষ। গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল। তবে ওই তদন্তে আপত্তি জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি দাখিল করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
শরীফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলন ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে চলা আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পান। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারের সময় মোটরসাইকেল আরোহী আততায়ীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তার মৃত্যু হয়।
ডিবি পুলিশের দাখিল করা আগের অভিযোগপত্রে সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পি ও ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মো. হুমায়ুন কবির, হাসি বেগম, সাহেদা পারভীন সামিয়া, ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু, মো. ফয়সাল, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তার। অভিযোগপত্রে নাম থাকা প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ পাঁচজন এখনও পলাতক রয়েছেন।
ডিবি পুলিশের আগের তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, হাদির রাজনৈতিক বক্তব্য ও নির্বাচনি জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনি পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরিই ছিল হামলার মূল উদ্দেশ্য। তবে এসব বিষয় আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে মামলাটি এখন সিআইডির অধিকতর তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে একাধিকবার প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়ে যাওয়ায় মামলার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নতুন নির্ধারিত তারিখে সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।