নির্বাচনের আর মাত্র ৯ দিন বাকী রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জামায়াতের আমীর দেশব্যাপী গণসংযোগ শেষে কটিয়াদী এক জনসভায় বলেন, কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত উপজেলাগুলোকে বিভিন্ন উন্নয়ন করবেন বলে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দানকালে বাংলাদেশ জামায়াত এর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তিনি বলেন, ‘নদী ও হাওর অধ্যুষিত বিলগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। যদি আপনারা আমাদের প্রতিনিধিকে সংসদে নিতে পারেন তাহলে নদীগুলো দিয়েই উন্নয়নের সংস্কার শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, 'কিশোরগঞ্জ জেলার মানুষ সাধারণত ধর্মপ্রাণ প্রিয়। এ জেলাকে আমরা ১৩ তারিখ থেকে নতুন ভাবে সাজাবেন বলে সভায় উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, এ জেলাকে আমরা কৃষি দিয়ে শিল্পাঞ্চল করবেন বলে এ কথা বলেন। ১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসীরা হাত দিয়েছিল, সেদিনই বাংলাদেশে আগুন জ্বলে উঠেছিল। মানুষ সবকিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু তার মায়ের অপমান সহ্য করতে পারে না। সমানভাবে তরুণদের সাথে তরুণীরা, যুবকের সাথে যুবতীরা, ভাইয়ের সাথে বোনেরা, বাবার সাথে মায়েরা চব্বিশে যুদ্ধ করেছে। আমরা মায়েদেরকে কথা দিচ্ছি, আপনাদের সমাজের সকল দিক থেকে সম্মানিত করব। অংশ হিসেবেই আমরা মাথায় তুলব। এটা আমাদের দায়িত্ব। যে জাতি মাকে সম্মান করে, আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্মান বৃদ্ধি করে দেয়। আর যে জাতি মায়ের সম্মান রাখতে পারে না, আল্লাহ তাআলা তাদের সম্মান উঠিয়ে নেয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির আরও বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি মানুষ শান্তিতে নিরাপদে থাকবে। কৃষক তার জমিতে ফসল ফলাবে। একজন শ্রমিক তার ন্যায্য পাওনা পাবে শ্রমের। এবং সে মানবিক মর্যাদায় সেখানে কাজ করবে। এই দেশে হাত পাতা মানুষ থাকবে না। হাত মজবুত হয়ে কাজ করার মানুষ থাকবে। এরপরে যাদের হাত কাজ করতে পারবে না, তাদের দায়িত্ব সরকার নেবে। একটা সুস্থ সবল জাতি গঠনের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত শিশুদের সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নিবে সরকার। আমরা বলেছি একটা শিশুও আর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। সকাল থেকেই কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াত ও ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ঢল নামে। জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের অঙ্গীকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে শুরু হয় জামায়াতের এই নির্বাচনি জনসভা। জামায়াত আমীরের আগমনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছিল। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো উপজেলা শহর। সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত হন ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াতে ইসলামী কেবল নিজেদের দলের নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। আসন্ন নির্বাচনে কোনো ধরনের 'চোরাগোপ্তা' পথে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। এছাড়া নদী ও হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন আমীরে জামায়াত। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ যাঁকেই নির্বাচিত করুক, তাঁরা তা মেনে নেবেন, তবে অন্যায্য কোনো নির্বাচন বরদাশত করা হবে না। কটিয়াদীরের এই জনসভায় জেলা ও উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমীর অধ্যাপক রমজান আলী। বিএনপির সাবেক এমপি ও বহিষ্কৃত নেতা মেজর (অব) আক্তারুজ্জামান রঞ্জনকেও সামনের সাড়িতে দেখা যায়। কটিয়াদীতে সভা শেষ করে এদিনই ময়মনসিংহ ও গাজীপুর সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।