বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত টাঙ্গুয়ার হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে প্রাকৃতিক করচ গাছের চারপাশ থেকে গভীরভাবে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করচ গাছগুলো উঁচু মাটির ঢিবির ওপর বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। সরেজমিনে দেখা যায়, করচ গাছের গোড়া থেকে চারপাশের মাটি তুলে নেওয়ায় গাছগুলোর শিকড় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এসব করচ গাছ শুকিয়ে মারা যেতে পারে। তাদের দাবি, টাঙ্গুয়ার হাওরের ১৬ নম্বর পিআইসির আওতায় এই মাটি কাটা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, করচ গাছ টাঙ্গুয়ার হাওরের মাছের প্রজনন, পরিযায়ী ও দেশি পাখির আশ্রয়স্থল এবং প্রাকৃতিকভাবে মাটির বাঁধ শক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অপরিকল্পিত ও দায়িত্বহীন বাঁধ নির্মাণের কারণে এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আরও বলেন, ফসল রক্ষার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও হাওরের পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। করচ গাছ ঘিরে মাটি কাটা হাওরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এতে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভাঙন, অতিরিক্ত স্রোত, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাস ধ্বংস এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের ঝুঁকি বাড়বে। সরেজমিনে হাওরে গিয়ে ১৬ নম্বর পিআইসির কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। কয়েকজন শ্রমিক ইচ্ছেমতো বাঁধের কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করে ১৬ নম্বর পিআইসির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি একদিন সুনামগঞ্জ গেছিলাম। ড্রাইভার একটা গাছের কাছ থেকে মাটি কাটছে। এইটা অস্বীকার করলে তো কাজ হইতো না।” এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, “হাওরের পরিবেশের ক্ষতি করে কোনোভাবেই বাঁধ নির্মাণ করা উচিত না। তদারকির অভাবেই এমন ঘটনা ঘটছে। এতে হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ভয়াবহভাবে বিনষ্ট হচ্ছে।” এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। তিনি বলেন, “যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”