ঢাকার উত্তরা এলাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিকুর রহমানের বাসায় কাজ করতে গিয়ে ১১ বছরের এক শিশু মেয়েকে দীর্ঘ সাত মাস ধরে নৃশংসভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ শিশুটির বাবার করা মামলার ভিত্তিতে এমডি সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তার এবং দুই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে, পরে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা জানান, “আমার মেয়ের গলা, পিঠ, হাত, পা—শরীরের প্রায় সব জায়গায় আঘাতের দাগ। পুরো শরীরে পোড়া ক্ষত। গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। এখন সে ঠিকমতো কথা বলতেও পারছে না। চিকিৎসক বলেছেন সুস্থ হতে অন্তত দুই মাস সময় লাগবে।” তিনি জানান, মেয়ের বয়স এক বছর হওয়ার সময়ই সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন। আর্থিক সংকট ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি গত বছরের জুনে মেয়েকে ঢাকার উত্তরার একটি বিত্তবান পরিবারের কাছে কাজে দিয়েছেন।
মেয়েকে দেওয়া বাসাটি ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডির নিজ বাসা। বাবা জানান, প্রথমে মেয়েকে নিরাপদে রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পরিবার জানিয়েছিল, পড়াশোনা, কাজ এবং ভবিষ্যতে মেয়ের বিয়ের খরচ তারা বহন করবে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই শিশুটি নৃশংস নির্যাতনের শিকার হন। গরম খুন্তি, শারীরিক মারধর, তুচ্ছ কারণে ঘরে বন্দি রাখার মতো নিষ্ঠুর আচরণ চলতে থাকে।
মেয়েকে হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বাবা জানান, ৩১ জানুয়ারি মেয়েকে অসুস্থ বলে জানিয়ে বাড়ির বাইরে বের করেন এমডির স্ত্রী। পরে শিশুটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিশুটি জানায়, গত বছরের নভেম্বর থেকে নিয়মিতভাবে তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হতো।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী রফিক আহমেদ জানান, “আট মাস আগে কাজ শুরু করে শিশুটি। শুরু থেকেই ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার। সারা শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অভিযুক্তরা এখন কারাগারে।” মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী আক্তার ও দুই গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর আলম তাকে প্রথমে বাসায় কাজের জন্য মেয়ের প্রয়োজন জানিয়ে এবং ভালোভাবে রাখার নিশ্চয়তা দিয়ে নিয়ে গেছেন। এরপর মাসের পর মাস ধরে মেয়েকে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পুলিশ সোমবার রাতেই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।