বাংলাদেশ চলবে জনগনের রায়ে

বরিশালের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
বরিশালের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার বিতারিত করার পরে এদেশ জনগনের বাংলাদেশ। তাই জনগণের রায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ চলবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগন তাদের জবাবদিহির জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে সরকার গঠণ করবে। তিনি আরও বলেছেন, স্বৈরাচারের মতোই বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল যাদের জনগন গুপ্ত পরিচয়ে চিনেন তারা এখন নতুন জালিম রূপে আর্বিভূত হয়েছে। যাদের কাছে দেশের মা-বোনরা নিরাপদ নয়। বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আরও বলেছেন, ৫ আগস্টের পরে দেখছি স্বৈরাচার যে ভাষায় জনগণকে কথা বলতো, গুনিমানি ব্যক্তিকে অপদস্থ করতো, মানুষকে ছোট করতো। সেই রীতি এখনও বন্ধ হয়নি। একটি দল গুপ্ত পরিচয়ে পরিচিত। সেই গুপ্তরা এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় দেশের মানুষের কাছে আবির্ভাব হয়েছে। অত্যন্ত কষ্ট ও ঘৃণার সাথে দেখছি, এই জালেমদের নেতা প্রকাশ্যে নারীদের অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেই নেতা ও কর্মীরা মা-বোনদের জন্য সম্মান দেখায় না, মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের কাছে বাংলাদেশের মানুষ আত্মসম্মানসূচক আচরণ আশা করতে পারেনা। তাদের কাছে মানুষের মর্যাদা নেই। তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের মানুষ কোন অগ্রগতি আশা করতে পারেন না। বিশ্ব নবীর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেছেন, তিনি (বিবি খাদিজা) ছিলেন একজন আদর্শ কর্মজীবী নারী। বদরের যুদ্ধে হযরত আয়েশা (রা.) সৈনিকদের সরঞ্জাম ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছিলেন। তিনি বলেন, নারীদের ঘরে বন্দি রাখলে দেশ এগোবে না। বাংলাদেশের নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের দেশের মা ও বোনেরা দীর্ঘদিন থেকে পুরুষের পাশাপাশি সম্মানের সাথে সব জায়গায় শক্তিশালী অবস্থানে থেকে বিভিন্ন কর্মে জড়িয়ে রয়েছেন। সেই মা ও বোনদের নিয়ে যারা কলঙ্কিত ভাষা ব্যববার করছেন, তারা এখন বিপদে পরে মিথ্যাচার করে বলছেন আইডি হ্যাক হয়ে গেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা তদন্ত করে বের করেছেন কোন আইডি হ্যাক হয়নি। তারেক রহমান বলেছেন, গুপ্তদের কুমিল্লা জেলার একজন নেতা তাদের দলের নেতাকর্মীদের বলেছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, ১২ তারিখের পর জনগণ আপনাদের পা ধরে থাকবে। কোন পর্যায়ের মানুষ তারা, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, মানুষকে কিভাবে তারা ট্রিট করছে, তাদের মানসিকতা কোন পর্যায়ের তা বেরিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, এরা নির্বাচিত হলে জনগণের ভাগ্যে কী দুর্বিসহ জীবন নেমে আসবে, তা এখনই বোঝা যাচ্ছে। তাই গুপ্তদের উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তারেক রহমান বলেন, একটি দল জাল ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। যারা নির্বাচনের আগে প্রতারণা করছে, তারা কিভাবে সৎ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী পাঁচ বছর আপনারা জনগণের পা ধরে থাকবেন। জনগণ পাশে না থাকলে কি হয়, সেটি ৫ আগস্ট দেখতে পেয়েছেন। বরিশাল বিভাগের উন্নয়ন ঘটনাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠণ করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুব করে দেওয়া হবে, দীর্ঘদিনের দাবি বরিশাল-ভোলা সেতু ও ভোলায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নির্মান। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা নদী ভাঙনরোধে পরিকল্পিত বেরিবাঁধ নির্মান, নারী সমাজকে পরিকল্পিতভাবে স্বাবলম্ভী করে তোলা হবে, তরুন-যুবক, যুবতীদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মানের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবারকে স্বাবলম্ভী করা, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের সহযোগিতা করা, হিমাগার নির্মানের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করা হবে। যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের নায্য মূল পান। এছাড়াও খালখননের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সংকটের সমাধানসহ বরিশালের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তারেক রহমান আরও বলেছেন, বিগত একযুগ ধরে এদেশের মানুষ মিথ্যে উন্নয়ন দেখেছে। মানুষের ভাগ্যের কোন উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করে জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস। তাই জনগনকে সাথে নিয়েই দেশ পূর্ণগঠণ করতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগনের অধিকার যেন কেউ হাইজ্যাক করে নিয়ে যেতে না পারে। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নিশিরাতের ভোট ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়কে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-ুজনতার আন্দোলনের মুখে সেই ব্যবস্থার পতন ঘটে এবং বাংলাদেশ আবার জনগণের হাতে ফিরে এসেছে। তিনি আরও বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানে যারা নির্যাতিত হয়েছেন এবং যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের একমাত্র প্রত্যাশা ছিলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং জনগণের ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। নারী সমাজের ভূমিকা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও গার্মেন্টসখাত পর্যন্ত দেশের অর্থনীতি নারীদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অথচ একটি গোষ্ঠীর নেতা সম্প্রতি নারীদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করেছে, যা দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের মা-বোনদের সম্মান করে না, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো অগ্রগতি বা মর্যাদাপূর্ণ রাজনীতি আশা করতে পারেনা। ইসলামের ইতিহাসেও নারীদের সক্রিয় ভূমিকার উদাহরণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের পিছনে রেখে কোনোভাবেই দেশ এগোতে পারেনা। যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নের উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গ্রামীণ এলাকায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।


সবশেষে তারেক রহমান বলেন, সময় এসেছে দেশ গড়ায় তাই আসুন সবাই মিলে করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে তারেক রহমান বরিশাল বিভাগের ১৯ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দুইটি আসনের শরীক দলের প্রার্থীদের নেতাকর্মীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী করার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগনের প্রতি আহবান করেন। এর আগে দীর্ঘ ২০ বছর পর নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে বুধবার বেলা ১১ টা ৫৬ মিনিটে বরিশাল স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টার থেকে নামেন তারেক রহমান। সেখান থেকে গাড়িবহরযোগে ১২ টা ২৬ মিনিটে নগরীর ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠের জনসভা মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। দুপুর একটা নয় মিনিট থেকে তিনি ১ টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বরিশাল মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বীর বীক্রম, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, নুরুল ইসলাম মনির, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, আলহাজ এবায়দুল হক চাঁন, বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন, আবুল হোসেন খান, ইলেন ভুট্টো, রাজিব আহসান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জোটের প্রার্থী সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, সাবেক ছাত্রনেতা এবিএম মোশারফ হোসেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লা আমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা। যৌথভাবে পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন।

নেতাকর্মীদের ঢল: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে বুধবার বেলা এগারোটার দিকে পবিত্র কোরান তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতের মধ্যদিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দীর্ঘ ২০ বছর পর বরিশালের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। তাই তাকে একনজর দেখার জন্য সভাস্থলে সকাল থেকে ঢল নামে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের। দলীয় চেয়ারম্যানের সফর উপলক্ষ্যে বিএনপি ও তার সকল সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আনন্দ বিরাজ করছিলো। বিভাগের ছয় জেলা ও দূরত্বের উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশের একদিন আগেই বরিশাল নগরীতে এসেছিলেন।  বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, শুধু বিএনপির নেতাকর্মীরাই নয়। আপামর জনগন সবাই চেয়ারম্যানের নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যানের জনসভাকে ঘিরে বরিশাল নগীরর ঐতিহাসিক বেলস্ পার্ক ময়দানে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের একটি মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছিলো। সকাল থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীরা যোগদান করেন। বেলা ১১ টার পূর্বে সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই বেলসপার্কের জনসভাস্থলের কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। পরবর্তীকে মাঠে স্থান না পেয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা পাশ্ববর্তী সড়ক, বাসা ও অফিসের ছাদে অবস্থান করেন। সবমিলিয়ে চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাটি ছিলো স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ। বরিশাল যে বিএনপির ঘাঁটি সমাবেশ থেকে তা বরিশালের মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছেন। আকন কুদ্দুসুর রহমান আরও বলেন, বরিশালবাসীর স্মৃতিতে এখনো জ্বলজ্বল করছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলের উন্নয়ন কর্মকান্ড। ১৯৭৯ সালে বরিশাল সার্কিট হাউজে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বরিশাল বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালে বিভাগ হিসেবে বরিশালের উদ্বোধন করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার শাসনামলেই বরিশাল বিমানবন্দর চালু, বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন, বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার, সার্কিট হাউজ, জেলা জজ আদালত ভবন, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বহু স্থাপনা গড়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য ও তার নির্দেশনামূলক বক্তব্য শোনার জন্য নদী ও সড়ক পথে বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছিলো। বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিলো। যেকারণে কোনধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা ছাড়াই জনসভা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সমাবেশস্থানসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ন মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো। শুধু সমাবেশই নয়; নির্বাচনের লেভেল প্লেইয়িং ফিল্ড রক্ষায় কাজ করছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ২৫ বছর পর একইমাঠে বক্তব্য রেখেছেন তার জ্যেষ্ঠপুত্র ও দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে ২০০৬ সালের ১৪ মে বরিশালে তৃণমূল বিএনপির কর্মীসভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে