বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী ) আসনে নির্বাচন ঘিরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই তীব্র দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এ আসনে বিএনপি ও জামায় এবং বিএনপির বিদ্রোহীপ্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী ভোট লাড়াই হবেবলে সাধারণ ভাটারদের ধারনা। দলের দুই পক্ষের এ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে গত দশদিন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ আসনের দুই উপজেলার ৩ লক্ষ ,২৮ হাজার ,১শত ৯৯ জন ভোটার।১২৯ ভোট কেন্দ্রর অধীকাংস ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ ধরে নিয়েই কঠোর অবস্থানে রয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। বরিশাল-১ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়াম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে শুরু থেকেই ভোটের মাঠে রয়েছেন। গণসংযোগ পথসভা ও ভোটারদের দ্বারেদারে। অন্যদিকে বহিস্কৃত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানদলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় তাঁর অনুসারি ও দলীয় নেতাকর্মীরা মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। এসবের পরও মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ফুটবল প্রতীক নিয়ে ওই আসনের নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন। গৌরনদীতে বিএনপির ভোট বেশি, আগৈলঝাড়ায় বিএনপির ভোটকম। আগৈলঝাড়ায় হিন্দু ও আওয়ামী লীগের ভোটবেশি। গৌরনদীতেও আওয়ামী ও হিন্দু ভোটার কমনয়, ব্যবধান খুব একটা বেশি নয়। জামায়াত দুই উপজেলায় তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত। গৌরনদী উপজেলায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের বাড়ি ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান বাড়ি। দুই প্রার্থীর বাড়ি দুই উপজেলায়। জামায়াতের প্রার্থীর বাড়িও গৌরনদী উপজেলাতে। অন্যদিকে গৌরনদী - আগৈলঝাড়া দুই উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ও হিন্দু ভোটার-সমর্থক বরিশাল-১ নির্বাচন ঘিরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে দুই পক্ষের এ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। বিএনপি , জামায়াতের ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের ব্যবধান খুব একটা বেশি নয় তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক ভোটার রয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে টানতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে এলাকা ঘুরে বিএনপির তৃণমূলের বেশ কিছু নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে আগৈলঝাড়া-গৌরনদী দুই উপজেলা বিএনপি প্রকাশ্যে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নিজেদের মধ্যে সংঘাতের পথও প্রসারিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা উত্তর বিএনপির আহবায়ক দেওয়ান মোহাম্মদ শহিদুল্লা সাংবাদিক বলেন, দলের মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বাইরে কেউ কাজ করলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। দেশের ও দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করে তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করতে হবে।