নীলফামারী ডালিয়া হ্যালিপ্যাড মাঠে বুধবার দুপুরে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে কোথাও কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না, কোথাও কাউকে প্রভু মানব না। জামায়াত আমির বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই এ দেশের আঠারো কোটি মানুষের বিজয়। “নীলফামারী জেলার প্রধান দুঃখ হলো নদী, বর্ষা আসলেই নদীপাড়ের মানুষের চিন্তা শুরু হয়ে যায়, কখন কার বসতবাড়ি ভেসে যায়, এই নদীগুলোকে দিনের পর দিন একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি হত্যা করেছে, নদীগুলোকে কঙ্কাল বানানো হয়েছে, নদী ভাঙ্গন রোধে যত বাজেট হয়েছে সবগুলো তাদের পেটের ভেতরে গেছে, আমরা ক্ষমতায় আসলে তিস্তাপারের উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে, এখানে সবাই কাজ পাবে, কেউ বেকার থাকবে না। নারী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, কর্মক্ষেত্রে সমান কাজ করেও নারী শ্রমিকরা অনেক ক্ষেত্রে কম মজুরি পান। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কর্মস্থল থেকে আবাসস্থলে নারীরা শতভাগ নিরাপত্তা ও সম্মান পাবে। এটি মায়েদের কাছে আমাদের প্রথম ওয়াদা। আবরার ফাহাদ প্রথমে শাহাদাদ বরণ করেছিলেন। তার রাস্তা ধরে আবু সাঈদ, মুগ্ধ শহীদ হন। সর্বশেষ শরীফ ওসমান হাদিসহ ১৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। এই ১৪০০ বীরের লাশ এখন এই জাতির ঘাড়ে। শহীদদের রক্তে তারা আমাদের নদীগুলো লাল করে দিয়েছে। আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা এই শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি করব না। তাদের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করব না, তাদের আকা্ক্ষংা বাস্তবায়নে আমরা লড়ে যাবো ইনশাল্লাহ্। তিনি নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা)আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুস ছাত্তারকে দাড়িপাল্লা মার্কায়ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহবান জানান। নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোঃ আব্দুস ছাত্তারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং জাতীয় নাগরিক পাটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। দুপুরে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে নীলফামারী জেলার ডালিয়া হেলিপ্যাড মাঠে পৌঁছান জামায়াত আমির। সেখান থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় গাড়িবহরে তিনি জনসভাস্থলে যান তিনি।