বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ফরিদপুর বিভাগ (সাংগঠনিক বিভাগ) বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, “জনগণের স্বাধীনতা, ভোট ও কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। এই ষড়যন্ত্র যারা করছে, জনগণের পক্ষ থেকে তাদের একটি নাম দেওয়া হয়েছে ‘গুপ্ত’। জনগণ তাদের গুপ্ত নামে ডাকে। কারণ জনগণ দেখেছে, যখনই সময় এদিক হয় তখন তাদের এক রূপ, যখন সময় হয় ওদিক তখন তাদের আরেক রূপ। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তারা রূপ পরিবর্তন করে।”
তারেক রহমান বলেন, “এদের কাছ থেকে আমরা ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারি না। ১৯৭১ সালে তাদের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের লাখ লাখ নারী, লাখ লাখ মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছিল। এদের কাছ থেকে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। এরা বলবে একটা, করবে আরেকটা। নিজের দেশের মা-বোনদের সম্পর্কে যাদের মিনিমাম সম্মানবোধ নেই, তাদের কাছে আমরা নিরাপদ নই।”
‘আমরা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার খবরে দেখছি-এই গুপ্তদের বিভিন্ন লোকজন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিশেষ করে মা-বোনদের কাছে গিয়ে তারা বিকাশ নম্বর ও এনআইডি নম্বর চাইছে। তারা কেন চাইছে-তারা দেশের মানুষের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করছে। অথচ অন্যদিকে আমরা দেখি, তারা নাকি সৎ লোকের শাসন দেবে। আপনি কাজটা শুরু করেছেন অনৈতিক বিষয় দিয়ে। যেখানে আপনি নিজেই অনৈতিক কাজ দিয়ে শুরু করেছেন, সেখানে জনগণ কীভাবে আশা করবে আপনারা সৎ লোকের শাসন দেবেন’-উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপির প্রধান আরও বলেন, এই নির্বাচনী জনসভায় আপনাদের সামনে আমি এতটুকু বলতে চাই-ফরিদপুর বিভাগ গঠন করলে যদি সমস্যা সমাধান হয়, তাহলে বিএনপি এটা সমাধান করবে। আমরা শুনেছি প্রত্যেক এলাকায় এত উন্নয়ন হয়েছে, তাহলে আপনাদের প্রার্থীরা এত সমস্যার কথা বলল কেন? বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। দেশে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলেই কেবল দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। বিএনপিকে ১২ তারিখ দেশের মানুষ ভোট দিলে কী কী করবে বিএনপি, তা আমরা পরিকল্পনা করেছি। এই এলাকার একটি অন্যতম সমস্যা নদীভাঙন। কৃষিপ্রধান এই এলাকায় আমরা নদীভাঙন রোধ করতে পারলে এই ফরিদপুরের অন্যতম সেরা ফসল পাটকে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা পাব।
‘কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই আমরা কৃষকদের কৃষক কার্ড দেব। এর মাধ্যমে তাদের ফসল ফলাতে বীজ, সার পৌঁছে দিতে চাই। এই এলাকার একটি অন্যতম সমস্যা বেকারত্ব। আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক এলাকায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কলকারখানা করব, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে। নারীদেরকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না। এজন্য নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। তার মাধ্যমে নারীরা খেটে খাওয়া পরিবারগুলো কিছু সহায়তা পাবে। ফরিদপুরের নেতারা দুটি দাবির কথা বলেছেন-এক, এই ফরিদপুর শহরকে সিটি কর্পোরেশন করা এবং দুই, ফরিদপুরকে বিভাগ করা। আজকের এই নির্বাচনী জনসভায় আপনাদের সবার সামনে আমি এতটুকু বলতে চাই, ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করলে আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে, বিভাগ গঠন করলে যদি এলাকার মানুষের উপকার হয়, বিভাগ গঠন করলে যদি মানুষের সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে ইনশাল্লাহ জনগণের সেই দাবি বিএনপি পূরণ করবে’-যোগ করেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর ফরিদপুর এলাকা কৃষিপ্রধান একটি এলাকা। এই এলাকায় পাটশিল্প আছে। যেই পাটশিল্পকে যদি আমরা সহযোগিতা করতে পারি। এই পাটশিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ কৃষক ভাইয়েরা জড়িত আছে এবং এই পাটশিল্পকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে একদিকে যখন কৃষক ভাইদের সুবিধা হবে, একইভাবে আমরা দেশকেও সামনে নিয়ে যেতে পারব। এই পাট রপ্তানি করার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব।