দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের নাগরিকেরা একটি সত্যিকারের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এবারের ভোটে কোনো জালিয়াতি, ছলচাতুরী কিংবা জবরদস্তির আশঙ্কা নেই।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে যে সরকার দায়িত্বে আছে তারা নিরপেক্ষ। এই সরকার একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে চায়, যাতে ভোটের মাধ্যমেই জনগণের সরকার গঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ফাঁড়াবাড়ি বাজার এলাকা ও ফারাবাড়ী বউচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত পৃথক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়, জনগণ চায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোও চায় একটি সুষ্ঠু ভোট হোক। এই সম্মিলিত আগ্রহের কারণে এবারের নির্বাচনে একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য ফল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা সবাই চাই আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। মন যাকে চাইবে তাকেই দেব। এবারের ভোটের মধ্য দিয়ে আমরা এমন একটি সরকার গঠন করতে পারব, যারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করবে, গণতন্ত্র রক্ষা করবে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।”
পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, গত তিনটি নির্বাচনের কোনোটি সঠিকভাবে হয়নি। একটি নির্বাচনে আগের রাতেই ভোট দেওয়া হয়েছিল, আর ২০২৪ সালের নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনকে বিএনপি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, কারণ দীর্ঘ সময় পর জনগণ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে।
নির্বাচনী সভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জনগণকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট দিতে গিয়ে কেউ হামলার শিকার হবেন এমন কোনো ভয় করার কারণ নেই। সবাই এই দেশের সমান নাগরিক এবং সবার ভোটাধিকার সমান।
জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের অবস্থান দেশবাসীর জানা আছে। স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই এবং ইতিহাস ভুলে যাওয়ার সুযোগও নেই।
নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি তার শেষ নির্বাচন। বয়স ও শারীরিক সামর্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তিনি জনগণের কাছে ভোট চেয়েছেন এবং ধানের শীষে ভোট দিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী সভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বক্তব্য দেন।