মাধবপুর চুনারুঘাট আসনে চারিদিকে ধানের শীষের জয়ধ্বনি

এফএনএস (মোঃ আলাউদ্দিন রনি; মাধবপুর, হবিগঞ্জ) : | প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
মাধবপুর চুনারুঘাট আসনে চারিদিকে ধানের শীষের জয়ধ্বনি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের ভোটের মাঠ। হাটবাজার, চায়ের দোকান, চা বাগানের লাইনঘর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জ-সবখানেই এখন একটাই আলোচনা: কার দিকে যাবে এই আসনের ভোট? বিশেষ করে ধানের শীষ প্রতীককে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে সরব আলোচনা লক্ষ করা যাচ্ছে।

এই আসনে মোট ২১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছে। শুরুতে অনেকেই মনে করছিলেন, ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কম থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নির্বাচনের দিন যত কাছাকাছি আসছে, ততই বাড়ছে জল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। কে হবেন জনপ্রতিনিধি, তিনি জনগণের জন্য কী করবেন-এসব প্রশ্ন এখন সর্বত্র আলোচিত বিষয়।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ২৩টি চা বাগানের প্রায় ৭৫ হাজার ভোট এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটাররা। সব মিলিয়ে এই দুই গোষ্ঠীর ভোট প্রায় দেড় লাখ বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে এই ভোটব্যাংক আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ভোটে নেই দলটি। তবে দেড় লাখের অধিক নিজস্ব ভোট রয়েছে দলটির। তারা যাকে ভোট দিলে শান্তিতে থাকতে পারবেন এমন প্রার্থীর দিকে ঝুঁকছেন।তাই  এবারের চিত্র ভিন্ন। চা শ্রমিক ও সনাতন সম্প্রদায়ের অনেক ভোটার এখন খোলামেলাভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, ভোটের মাধ্যমে তারা নিজেদের দাবি আদায় করতে চান এবং যিনি জিতবেন তাকে জবাবদিহির আওতায় রাখতে চান।

এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা ও শিল্পপতি সৈয়দ মো. ফয়সল। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি গ্রামে-গঞ্জে, চা বাগানে ও বাজারে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন।

শুরুতে ধারণা করা হচ্ছিল, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সাংবাদিক অলি উল্লাহ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন। কিন্তু তিনি জোটের সিদ্ধান্তে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে খেলাফত মজলিশকে সমর্থন দিয়েছেন। ফলে ভোটের হিসাব নতুন করে সাজাতে হচ্ছে বিশ্লেষকদের।

বর্তমানে আলোচনায় আছেন ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন তাহেরি এবং খেলাফত মজলিশের প্রার্থী আহমেদ আব্দুল কাদের। আহমেদ আব্দুল কাদের মাধবপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও এলাকায় তার জনপ্রিয়তা সীমিত বলে স্থানীয়রা মনে করেন। তিনি আগেও দুইবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাননি।

গিয়াস উদ্দিন তাহেরি শুরুতে কিছু  আলোচনায় থাকলেও এখন সেই উত্তাপ ভাটা পড়েছে।অনেক ভোটার বলছেন, তিনি মাধবপুর বা চুনারুঘাটের বাসিন্দা নন, ফলে স্থানীয় সমস্যাগুলো কতটা বুঝবেন-তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাসিন্দা হেমন্ত পান বলেন, “আমাদের এলাকার মানুষকেই এমপি বানানো দরকার। কোনো সমস্যা হলে তাকে সহজে পাওয়া যাবে এবং জবাবদিহি করা যাবে। বাইরের লোক হলে এসব সম্ভব হয় না।”

ব্যবসায়ী মানিক সরকার মনে করেন, সৈয়দ মো. ফয়সল এমপি হলে চা শ্রমিক ও সনাতন সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, “ফয়সল দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে আছেন। তাই আমরা চাই জনগণের রায়ে তিনি নির্বাচিত হোন।”মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল বলেন,সৈয়দ মোঃ,ফয়সল একজন পরীক্ষিত নেতা।দলমতের উর্ধ্বে তিনি সবার চোখে সমান।তিনি এমপি নির্বাচিত হলে মাধবপুর চুনারুঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি সবার নিরাপত্তা সম অধিকার প্রতিষ্টায় কাজ করবেন।শুক্রবার সকালে নোয়াপাড়ায় ভোটারদের সাথে গণসংযোগ শেষে এই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন,আমার ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই।জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সবার সেবা করে যেতে চাই।এবার দলমত নির্বিশেষে জনগনের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা দিযেছে।নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাব আজীবন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে