রাজশাহীর বাগমারায় জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট দিতে দলীয় কর্মীদের উৎসাহিত করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তাঁকে উদ্ধার করতে এসে তাঁর দুই ভাতিজাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। আহতদের গোপনে তাহেরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের সাদোপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত আওয়ামী লীগ নেতার নাম মুহিদুল ইসলাম (৪৮)। তিনি শ্রীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাদোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন পল্লিচিকিৎসক। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে মুহিদুল ইসলাম এলাকার এক অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। সাদোপাড়া ডাকঘরের সামনে পৌঁছালে একই গ্রামের বিএনপির কর্মী মোজাম্মেল হক, আরিফুল ইসলামসহ চার-পাঁচজন তাঁর গতিরোধ করেন। এ সময় তাঁকে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় এবং আওয়ামী লীগের লোকজনকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে কেন বলেছেন—তা নিয়ে কৈফিয়ত চাওয়া হয়। অভিযোগ অস্বীকার করলে বিএনপির কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে রড ও লাঠি দিয়ে মুহিদুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর চিৎকারে দুই ভাতিজা খায়রুল ইসলাম (২৩) ও রাতুল ইসলাম (১৭) ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে তাহেরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে তাঁদের বাড়িতে রাখা হয়েছে। আহত খায়রুল ইসলাম বলেন, “আমার বাম হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে, হাত ভেঙে গেছে। মামলা করলে আরও সমস্যা হবে—এই ভয়ে মামলা করব না।” আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাম পারভেজের নির্দেশেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে সালাম পারভেজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে সামান্য চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে। ২০২২ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচন চলাকালে আমাকে উসকানি দিয়েছিল। এটা বড় কোনো ঘটনা নয়। আমি এলাকা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছি।” এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানান, পুলিশ ঘটনাটি জেনেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।