সেতুর অভাবে ড্রামের ভেলায় ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপাড়

এফএনএস (হাফিজুরহাফিজুর রহমান হৃদয়; নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
সেতুর অভাবে ড্রামের ভেলায় ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপাড়

একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তির শেষ নেই কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সংযোগস্থল ফুলকুমার নদীর দুইপাড়ের মানুষের। এই নদীর উপর একটি সেতু না থাকায় স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এমনকী কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পন্য পরিবহনের জন্যও নেই কোনো যাতায়াতের কোনো বিকল্প পথ। স্থানীয়রা জানান, নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের রতনপুর ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের মাঝিটারি এলাকার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা এই ফলকুমার নদীটিই দুই উপজেলার লাখও মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র ভরসাস্থল। দুইপাড়ের মানুষের চলাচলের জন্য স্থানীয় বাসীন্দারা কাঠ, বাঁশ, ধান, চাল, টাকা সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে কয়েকবার এই নদীর উপর কাঠের সাঁকে নির্মাণ করলেও প্রতিবছর বন্যা হয়ে পানি স্রোতে ভেঙে যায়। এতে করে থমকে যায় লাখও মানুষের জীবনযাত্রা। ফের পুণরায় সাঁকো নির্মাণ করলে আবাও একইভাবে স্রোতে ভেঙে যায় সেই সাঁকো। এভাবেই প্রকৃতি তাদের সাথে নির্মম ভাঙা গড়ার খেলায় মত্ত থাকে। পলে সুবিধাবঞ্চিত হতে হয় বিভিন্নভাবে। এভাবে ভাঙাগড়ার খেলায় হার মেনে গেলো বছর পূণরায় সাঁকোটি ভেঙে গেলে স্থানীয়রা একটি ড্রামের ভেলা তৈরী করে সেই ভেলা দিয়েই নদীপাড়াপাড় হয় দুই এলাকার বাসীন্দা। এতে করে কোনো অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্বজনদের। সাধারণ মানুষের হাট-বাহারে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের দুর্দশার যেনো শেষ থাকে না। স্কুল, মাদারাসা ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুল, মাদরাসা ও কলেজে যেতে না পাড়ায় শিক্ষা থেকেও দূড়ে সরে যায়। যাতায়াতে অনেকসময় ভেলা থেকে পড়ে ভিজে যায় বই খাতা, পোশাক। আর যায়ো হয়না স্কুলে। এভাবেই ঝরে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়াও ড্রামের ভেলায় ঝঁকি নিয়ে পাড়াপাড় হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শিকার হতে হয় দুর্ঘটনার। এলাকাবাসীর অভিযোগ একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আতিকুর রহমান জানায়, প্রতিনিয়িত এই ড্রামের ভেলায় দুই পাড়ের শতাধিক শিক্ষার্থী স্কুল কলেজ ও মাদরাসায় যাতায়াত করেন। তবে অনেক সময় ড্রামের ভেলা থেকে পড়ে গিয়ে সব ভিজে যায়। আর স্কুলে যাওয়া হয়না। এভাবে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মাঝিটারী এলাকার আব্দুল গফুর জানান, তারা প্রতিনিয়িত এই ড্রামের ভেলায় করে হাটাবাজার করেন। কৃষিপণ্য বাজারজাত করেতও ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফলে সঠিক মূল্য পান না তারা। গোলাপী বেগম জানান এই নদীর পাড় হেেত গেলে ভোগান্তির কারণে চোখে পানি আসে তাদের। কোনো অসুস্ত রোগী কিংবা পসূতি নারীকে হাসপাতালে নিতে গেলে সময়মতো পৌছতে পারেন না। ফলে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় অনেক মানুষকে। 

রায়গঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দিপ মন্ডল বলেন, ফুলকুমার নদীর উপর একটি ব্রিজ না থাকায় দুই উপজেলার অথিৈনতক উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে। কৃষি, স্বাস্থ, শিক্ষা চিকিৎসাসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পেতে পেতেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ফলে ফুলকুমার নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। নাগেশ্বরী উপজেলা প্রোকৌশলী আসিফ ইকবাল রাজিব বলেন, সংযোগ স্থলের রাস্তার আইডি না থাকায় বিজ্র করা সম্ভব নয়। আইডি হলে এপ্রোচ রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে