ভোটের আর মাত্র পাঁচদিন বাকি। এই সময়ের মধ্যে মেঘনা ডাকাতিয়া নদীবেষ্টিত ত্রিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার জনপদ চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর ও হাইমচর) সদর আসনটিতে বিএনপি ধানের শীষের দুর্গ হিসেবে পরিচিত।রাজনৈতিক মাঠে খুবই গুরুত্বপুর্ণ এ আসন টিতে এই প্রথম নৌকা বিহীন ধানের শীষের সঙ্গে ভোটের লড়াই হতে যাচ্ছে দাঁড়িপাল্লার। সেই লড়াইয়ের দৌড়ে আরো আছেন চরমোনাই পীরের হাতপাখা, ইসলামি ফ্রন্টের মোমবাতি ও কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ কে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে চলছে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা, মিছিল পথসভা উঠান বৈঠক,দলীয় নেতাকর্মীদের তৎপরতা। প্রতিদিনই বাড়ছে সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক, মিছিল এবং বাড়ি বাড়ি ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়ার ব্যস্ততা।১২ ই ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন, তাই নির্বাচন কেন্দ্রিক সকল প্রস্তুতি প্রতিদ্বন্দ্বীদের জোড়তোড় ভাবে চলছে। তবে সাধারণ ভোটাররা মুখ খুলছে না, হ্যাঁ বা না- ধানের শীষ না দাঁড়িপাল্লা, হাতপাখা বা অন্য মার্কা।কাকে ভোট দিবেন,চাপা রাখছেন।অনেকে আবার ভোট দিতে যাবেন কি যাবেন না আছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। সবদিক থেকে নির্বাচনী মাঠের আলোচনায় বরাবর এগিয়ে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।তাঁর পক্ষে ধানের শীষের জোয়ার বইছে। এরপর আছেন জামায়েত ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোট প্রার্থী অ্যাড. শাহজাহান মিয়া'র দাঁড়িপাল্লার প্রচারণা ও গণসংযোগ।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখার প্রার্থী শেখ মো. জয়নাল আবেদীন,এ এইচ এম আহসান উল্লাহ-ইসলামী ফ্রন্ট- প্রার্থীর প্রতীক- মোমবাতি ও কমরেড জাহাঙ্গীর হোসেন-কমিউনিস্ট পার্টি- প্রার্থীর প্রতীক- কাস্তে। নির্বাচনী লড়াইয়ে তারাও মাঠে আছেন। উল্লেখিত প্রার্থীদের ব্যানার ফেস্টুন প্লেকার্ড এবং মাইকিং প্রচারণা নির্বাচনী এলাকায় শোভা পেলেও মাঠে নেই অ্যাড.সেলিম আকবর-গণফোরাম-প্রার্থীর প্রতীক -উদয়মান সূর্য এবং সাংবাদিক জাকির হোসেন-গণ অধিকার পরিষদ-প্রার্থীর প্রতীক-ট্রাক। এ দুইজন প্রার্থী ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে ব্যালটে তাদের নাম ও মার্কা থাকছে। আগের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল নৌকা। এবার নৌকা বিহীন নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা কম। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবার এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দাঁড়িয়েছে বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, প্রচারণার দৃশ্যমান গতি ধানের শীষের দিকে থাকলেও ভোটের প্রকৃত সমীকরণে জামায়াত প্রার্থী অ্যাড.শাহজাহান অবস্থান কি হতে পারে নীরব থাকা ভোটের হিসাব করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টি, গণ ফোরাম, গণঅধিকার পরিষদ, হেফাজতের অংশ জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম এবং সনাতনী সম্প্রদায় বিএনপি ও ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।তারপর আছে বিএনপির বিশাল নেতাকর্মী ও সমর্থক বৃন্দ। এতকিছুতে এই আসনে ধানের শীষের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা বিহীন অন্য কোন মার্কাকে দেখছে না স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। তবে আওয়ামী লীগ ও সনাতন ধর্মাম্বলিদের ভোট কোন দিকে যায়, সেই সমীকরণ মিলাচ্ছেন তারা। ফলে নির্বাচনী মাঠে জামাত তথা ১১ দলীয় জোটের অবস্থানকে সহজে দুর্বল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।ভোটারদের ভাষ্য, নির্বাচনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে তুলনামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানায়,
চাঁদপুর-৩ আসন নং- ২৬২ চাঁদপুর সদর ও হাইমচর মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩শ ৩৪ জন। এর মধে নারী ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬শ ২৮ জন এবং পুরুষ ভোটার সংখ্যা-২ লাখ ৮২ হাজার ৭শ ৪ জন।হিজরা ২ জন। কেন্দ্র ১শ ৬৫টি এবং কক্ষ ৯শ ৯৪ টি।