সরাইলে নদী সেচে মৎস্য নিধন, হুমকিতে ফসল সড়ক ও ব্রীজ

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সরাইলে নদী সেচে মৎস্য নিধন, হুমকিতে ফসল সড়ক ও ব্রীজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের কুইট্টা সেতুর দুই পাশে তিতাস নদীর শাখা পুটিয়া নদীতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মৎস্য নিধনের লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে বাঁধ। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল নদীর তলদেশ শুকাতে চালিয়েছেন মেশিনে পানি সেচ কার্যক্রম। আইন অমান্য করে গত এক মাসেরও অধিক সময় ধরে ৫-৬টি সেচ যন্ত্রে (শেলু মেশিনে) দিনে রাতে নদী সেচের কাজ চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে স্থানীয় কৃষকদের। হুমকিতে পড়েছে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও সেতুটি। পরিত্রাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ৫১ জন কৃষক।  সরেজমিন অনুসন্ধান, অভিযোগপত্র ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পুটিয়া নদীর এই অংশটি কালীকচ্ছ ইউনিয়নের চানপুরের ‘সোনালী মৎস্যজীবি সমিতি’র অনুকুলে লীজ প্রদান করেন কর্তৃপক্ষ। পুটিয়া নদীর চারিদিকে প্রজার যৌথ সম্পত্তি ও কৃষি জমি রয়েছে। ওই নদীর পানি দিয়ে কৃষকরা তাদের শতশত বিঘা জমিতে ধান চাষ করে আসছেন। এখন চলছে ফসলের মৌসুম। এরই মধ্যে সেতুর দুইদিকে মেশিন বসিয়ে নদীর পানি সেচ করছেন সেলিম মিয়া ও রাজ্জাক মিয়া। স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। ফসল রক্ষা করতে পানি পাব কোথায়? একটি চক্র নিজেদের লাভের জন্য প্রতিবছর নদী ধ্বংসের খেলায় মত্ত হয়। এরা কৃষক ও কৃষির চিন্তা করেন না। কৌশল করে চক্রটি নিজেরা পুটিয়া নদীকে বিল মোড়ল গজারিয়া নাম দিয়েছেন। বিল মোড়ল গজারিয়া আরো অনেক উত্তরে সরাইল নাসিরনগরের সীমানায় অবস্থিত। সোনালী মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি মো. সেলিম মিয়া মোটা অংকের টাকায় নদী সাবলীজ দেন রাজ্জাক আলী নামের আরেক ব্যক্তির কাছে। রাজ্জাক আলী পানি সেচ করে নদী শুকিয়ে  নদীর মৎস্য প্রজনন ক্ষমতা ধ্বংস ও ফসল উৎপাদন ব্যাহত করছে। নদীর পানি শুকিয়ে কাঁদা মাটি টানাটানি করায় সিএন্ডবি সড়ক ও ব্রীজটি ঝুঁকিতে পড়ে। কারণ ব্রীজের খুটি গুলোর গোড়ার মাটি সরতে থাকে। সেচ করে নদী শুকিয়ে ফেলার পরে সেখানকার ইরিবোরো ধান চাষ বাঁধা গ্রস্ত হয়। কারন ওই নদীর পানিই সেখানকার ফসলি জমিকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। সেইজন্য তারা জেলা প্রশাসকের শরনাপন্ন হয়েছেন। তারা গত ২৫ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কাছে সেচ কার্যক্রম বন্ধ করে নদী বাঁচাতে লিখিত আবেদন করেছেন। অভিযোগ দায়েরের পরও দেদারছে চলছে সেচ কাজ। প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন‘তরী বাংলাদেশ’ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ বলেন, এভাবে সেচ করে নদীর তলদেশ শুকিয়ে ফেলা মানে নদীকে ধ্বংস করা। জীব জন্তু ও মানুষের প্রয়োজনে নদীর সৌন্দর্য বজায় রেখে বাঁচিয়ে রাখা দেশের সকল নাগরিকের দায়িত্ব। পুটিয়া নদীর সেচকাজ দ্রূত বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী রাখছি।  সেচ কাজ পরিচালনা দলের বাবুর্চি দ্বীন ইসলাম বলেন, রাজ্জাক মিয়ার শ্রমিক হিসাবে গত এক মাসেরও অধিক সময় ধরে সেচ কাজ চলছে। সেলিম মিয়া থেকে রাজ্জাক ১৪/১৫ লাখ টাকায় নদীর পানির নিচের মাছ ক্রয় করেছেন। সেলিম মিয়া বলেন, সরকারকে ২১-২২ লাখ রাজস্ব দিয়ে বিল মোড়ল গজারিয়া লীজ এনেছি। পানি সেচ না করলে মাছ ধরব কিভাবে? উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, সেচ করে নদীর তলদেশ থেকে মৎস্য নিধন বিধিসম্মত নয়। আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিব। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার বলেন, বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে