কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর মৃত্যুর সাত বছর পর নতুন করে শোনার সুযোগ পাচ্ছেন শ্রোতারা। তার কণ্ঠে গাওয়া অপ্রকাশিত গান ‘আমার আয়ু নিয়ে বাঁচো’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে, যা ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে আলাদা আবেগ আর প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
সুবীর নন্দীর মৃত্যুর আগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক তানভীর তারেকের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ সংগীত প্রজেক্টে ১১টি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি। অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে সেই গানগুলো অপ্রকাশিত ছিল। সেখান থেকেই পর্যায়ক্রমে গান প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘আমার আয়ু নিয়ে বাঁচো’ সেই ধারাবাহিকতারই নতুন সংযোজন।
স্যাড রোমান্টিক ঘরানার এই গানটির কথা লিখেছেন গীতিকবি জাহিদ আকবর। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন তানভীর তারেক। গানটি মুক্তি পাচ্ছে ‘সাউন্ডস অব তানভীর’ ইউটিউব চ্যানেলে। পাশাপাশি অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাইসহ অর্ধশত আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও গানটি প্রকাশ করা হচ্ছে।
গানটি প্রসঙ্গে তানভীর তারেক বলেন, “সুবীর দার সঙ্গে এই গানগুলোর প্রজেক্ট আমার জীবনের অমূল্য স্মৃতির অংশ। প্রতিটি গানে অ্যাকুস্টিক ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহারে আলাদা যত্ন নেওয়া হয়েছে। এই গানে সেতার বাজিয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী রাহুল মুখোপাধ্যায়। সুবীর দার কণ্ঠ মানেই মেলোডির গভীরতা। রিলস আর টিকটকের যুগেও যাঁরা সুরে ডুবে থাকতে চান, এই গানটা তাদের জন্য।”
গীতিকবি জাহিদ আকবর জানান, “তানভীরের সুরে কাজ করা সব সময়ই স্বস্তির। এই গানটি যে সুবীর দার কণ্ঠে ধারণ করা হয়েছিল, সেটা আমি জানতামই না। এতদিন পর তার কণ্ঠে নিজের লেখা গান শুনে আমি সত্যিই মুগ্ধ। আমার বিশ্বাস, শ্রোতারাও গানটির আবেশ বারবার অনুভব করবেন।”
গানটির রেকর্ডিং হয়েছে ঢাকার কোলাহল স্টুডিও ও কলকাতার ভাইব্রেশন স্টুডিওতে। মিক্স ও মাস্টারিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে লাসভেগাসের টিএফপি স্টুডিওতে। তানভীর তারেক জানান, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় যমুনা টিভির একটি লাইভ অনুষ্ঠানে গানটির লিরিক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আলাদা দৃশ্যধারণ করে একটি থিমনির্ভর পূর্ণাঙ্গ মিউজিক ভিডিও প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যা আসন্ন রোজার ঈদে মুক্তি পাবে।
উল্লেখ্য, কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পী ২০১৯ সালের ৭ মে ৬৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘ চার দশকের সংগীতজীবনে তিনি আড়াই হাজারেরও বেশি গান উপহার দিয়েছেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এবং একুশে পদকে ভূষিত হন।