বাংলাদেশকে উড়িয়ে শিরোপা জিতল ভারত

এফএনএস স্পোর্টস | প্রকাশ: ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
বাংলাদেশকে উড়িয়ে শিরোপা জিতল ভারত

নেপালের পোখারায় শিরোপার মঞ্চে এসে ভেঙে পড়ল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলের স্বপ্ন। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে রক্ষণভাগ ও গোলকিপারের একের পর এক ভুলে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত।

লিগ পর্বে ভারতকে ২-০ গোলে হারানো বাংলাদেশ ফাইনালে নেমেছিল আত্মবিশ্বাস নিয়ে। কয়েক মাস ধরে ভারত-বাংলাদেশ নারী ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণেও প্রত্যাশা ছিল বেশি। কিন্তু ফাইনালের চাপ সামলাতে না পেরে শুরু থেকেই ছন্দ হারায় লাল-সবুজের মেয়েরা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুতই চলে যায় ভারতের হাতে।

পোখারার এবড়োখেবড়ো মাঠে প্রথমার্ধেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ৪০ মিনিটে বাম দিক থেকে আসা একটি ক্রসে রক্ষণভাগের ভুলে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান ভারতের ফরোয়ার্ডরা। সহজ পাস পেয়ে খুব কাছ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ঝুলান নংমাইথেম। এই গোলেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে ব্যবধান আরও বাড়ে। ৬০ মিনিটে বক্সের ভেতরে আলভা দেবীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট কিক থেকে লক্ষ্যভেদ করেন এলিজাবেথ লাকড়া। এরপর ৬৮ মিনিটে গোলকিপার ইয়ারজান বেগমের ভুলে তৃতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের গায়ে বল লাগলে ফিরতি সুযোগে পার্ল ফার্নান্দেজ বল জালে পাঠান। ৮৩ মিনিটে অন্বিতা রঘুরামনের গোল বাংলাদেশের সব আশা শেষ করে দেয়।

এই হারের মাধ্যমে শেষ হলো বাংলাদেশের দাপটের যাত্রা। ফাইনালের আগে পিটার বাটলারের দল তিন ম্যাচে ১৮ গোল করেছিল, হজম করেনি একটিও। বিপরীতে ভারত তিন ম্যাচে ৯ গোল করে হজম করেছিল ২ গোল। ফাইনালের পারফরম্যান্সে সেই পরিসংখ্যানের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ স্তরের ছয় আসরের পাঁচটিতেই চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে আগের আসরে বাংলাদেশ ও ভারত যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শুরু করলেও শেষ হাসি হাসতে পারল না বাংলাদেশের মেয়েরা।

টুর্নামেন্টটি আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় এএফসি নারী এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছিলেন কোচ পিটার বাটলার। সিনিয়র খেলোয়াড়রা না থাকলেও ফাইনালের এমন হার দলটির জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়েই থাকল।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে অবশ্য উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশের আলপি আক্তার। পুরো টুর্নামেন্টে দুটি হ্যাটট্রিকসহ তিনি করেছেন ৭টি গোল। মুনকি আক্তারের গোলসংখ্যা ৪। তবে ফাইনালের হতাশা সেই সাফল্যকে ছাপিয়ে গেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে