নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের লালপুরে বিএনপি ও স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিএনপি প্রার্থীর একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ লালপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপুর সমর্থক খলিল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাইফুল ইসলাম টিপু পক্ষের আহত ১০ জন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় । তারা হলেন- আড়বাব এলাকার মৃত মেহের আলীর ছেলে এনামুল হক (৪৫), জমিন প্রামানিকের ছেলে ফারুক (৩৭), ফজলুর রহমানের ছেলে সম্রাট (২৬), বড়বড়িয়া এলাকার আজিজলের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৩), শেরপাড়ায় এলাকার মৃত শমসের আলী প্রামাণিকের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মনজুর রহমান পান্না (৫২), কচুয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে জামরুল ইসলাম বাবু (৩২), আব্দুল জলিলের ছেলে গিয়াস (৪০), মসলেমের ছেলে মিঠুন (৩০), লালন আলীর ছেলে শাহীন আলী (৩০)। এছাড়াও টিপুর সমর্থক পুলিশের আটককৃত খলিল, সাইপাড়া গ্রামের আফতার আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৪) ও আড়বাবের আলাউদ্দিন মন্ডলের ছেলে জালাল উদ্দিনকে (৭৫) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে ফারজানা শারমিন পুতুল পক্ষের আহত ৪ জনকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় । তারা হলেন- সাইপাড়া এলাকার রঞ্জিত আলীর ছেলে শিহাব আলী (৩০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে শাহেদ আলী (২০), জহুরুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ (২৮), শুকচানের ছেলে আকমল (৩৫)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত আটটার দিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর (কলস) সমর্থকেরা উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া বাজার এলাকায় একটি নির্বাচনী মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের (ধানের শীষ) নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা গালাগালি ও ধাক্কাধাক্কিতে ধাওয়া পাল্টাও ধাওয়ায় মধ্য দিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে টিপু সমর্থকের কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় তাইফুল ইসলাম টিপুর সমর্থক সাইপাড়া গ্রামের আসমত প্রামানিকের ছেলে টিক্কা খান বাদি হয়ে নামীয় ২৭ জনসহ অজ্ঞাত ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অপর দিকে ফারজানা শারমিন পুতুলের সমর্থক কচুয়া গ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে আতাউর রহমান বাদি হয়ে নামীয় ১৯ জনসহ অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। টিপুর সমর্থক আসিফ ইকবাল জানান, কলস প্রতীকের মিছিল ধানের শীষের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছামাত্র হামলা চালানো হয়। ধানের শীষের প্রার্থীর মিডিয়া সেলের প্রধান মো. হামিদুর রহমান বাবু বলেন, ‘কলস প্রতীকে মিছিল থেকে তাঁদের কার্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ধানের শীষের কার্যালয় থেকে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। ৫-৬ শ মানুষের মিছিলে হামলা করায় অনেকে ছুটাছুটি করে এদিক সেদিক চলে গেছে। তাই আহতদের সঠিক সংখ্যা বলা কঠিন। শনিবার সকাল পর্যন্ত আহত ১৩ জন নেতাকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। যার মধ্যে ১০ জনকে ভর্তি করা হয়। তিনি দাবি করেন, ‘হামলার সময় বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা গুলি করেছে এবং তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিলো। হামলাকারীরা তাঁর সমর্থকদের ৫-৬ টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করেছে।’ অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু অভিযোগ করে বলেন, এশার নামাজের পর আড়বাব ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়া বাজারে নির্বাচনী অফিসে আমাদের কয়েকজন লোক বসেছিল। এ সময় সালামপুর থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর এক-দেড় শ সমর্থক কচুয়া বাজারে এসে মিছিল শুরু করে। মিছিলটি আমাদের অফিস অতিক্রম করে আবারও ঘুরে আসে। একপর্যায়ে আমাদের অফিসে তারা হামলা চালিয়ে অফিস তছনছ করে দেয়। আমাদের প্রার্থী ও তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করে। এ সময় আমাদের ৪ জন সমর্থক আহত হয়। লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবর রহমান উভয় পক্ষের মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।