সংখ্যালঘু ভোটারদের হুমকির অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

এফএনএস (এ.কে. আজাদ সেন্টু; লালপুর, নাটোর) : | প্রকাশ: ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
সংখ্যালঘু ভোটারদের হুমকির অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে  নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নে কলস প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। তাদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটারদের টার্গেট করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই, কিন্তু কিছু গোষ্ঠী সহিংসতা ও ভয়ভীতি দিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।”


লালপুর উপজেলার কচুয়া এলাকায় শুক্রবার সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে টিপু দাবি করেন, তাঁর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী কার্যক্রমে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে সংঘর্ষের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে তাঁর ১৩ জন নেতাকর্মী পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এ সময় তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগও তোলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে খলিল নামের তাঁর এক নিরীহ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা সংঘাত নয়, ভোটের মাধ্যমেই জনগণের রায় চাই। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে এই আসনে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। সে ক্ষেত্রে আমরাই বিজয়ী হব, ইনশাল্লাহ।” নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে তিনি নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন-

১. সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।

২. নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার।

৩. নির্বাচনের অন্তত ৫ দিন আগে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে টহল জোরদার।

৪. প্রশাসনের উদ্যোগে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে প্রচারের মাধ্যমে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিশ্চিত করা।

৫. নির্বাচনের ৭ দিন আগে থেকে বিশৃঙ্খলা, নাশকতা ও রক্তপাতের আশঙ্কা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

৬. নিরীহ মানুষ ও বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার বন্ধ এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি প্রদান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মনজুরুল ইসলাম বিমল, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান, ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম সরকার, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রানা, বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, পৌরসভার সাবেক মেয়র শরিফুল ইসলাম লেনিনসহ তাঁর নির্বাচনী সমর্থক ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে