আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট জোট মনোনীত বরিশাল-৩ (মুলাদী ও বাবুগঞ্জ) আসনের মই মার্কার প্রার্থী মো. আজমুল হাসান জিহাদের জনতার ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবে জনতার ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে মই মার্কার প্রার্থী মো. আজমুল হাসান জিহাদ বলেন, লাখো শহীদের রক্তে ভেজা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে আমাদের গর্বের-ঐতিহ্যের এক লীলাভূমি এই মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলা। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের অমর সঙ্গীত আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানের সুরস্রষ্টা আলতাফ মাহমুদ এই মাটির সন্তান। এই দেশ যাদের বুকের তাজা রক্ত এবং অসীম ত্যাগে সৃষ্টি হয়েছে, আমি শুরুতেই সেই সব বীর শহীদ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। দেশ মাতৃকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বাড়ি বাবুগঞ্জের মাটিতেই। তার বীরত্ব ও মহান আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি স্বপ্ন দেখছি, একটা জাগ্রত বাংলাদেশের। স্বপ্ন দেখি জাগ্রত মুলাদী ও বাবুগঞ্জের। আমি আমার স্বপ্নের বাস্তবায়ন চাই এই জনপদের তরুণদের স্বপ্নের জাগরণের মধ্যদিয়ে। আমার স্বপ্ন ও চাওয়া মুলাদী ও বাবুগঞ্জের সবগুলো ইউনিয়নে লোকালবাসে চড়ে কম খরচে ভ্রমণ করতে চাই। যেন গাড়ি নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে প্রতিটি ওয়ার্ডে গ্রামে পাড়া-মহল্লায় বেড়াতে যাওয়া যায়। বিশেষ করে আমার মৃত্যুর পরে আমার লাশবাহী গাড়িটা যেনো আমার বাড়িতে পৌঁছাতে পারে। পথে কোথাও যেনো নামতে না হয়, এমন রাস্তা ও ব্রিজ চাই। তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে সফিপুর ব্রিজ, রামচর-বোয়ালিয়া-নাজিরপুর সংযুক্ত ব্রিজ, সেলিমপুর-সাহেবরামপুর সংযুক্ত ব্রিজ, লক্ষ্ণীরহাট ব্রিজ, পাইতিখোলা ব্রিজ ও হোসনাবাদ ব্রিজ নির্মানের মধ্যদিয়ে পুরো এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা করতে চাই। এছাড়াও নদী বিধৌত মুলাদী ও বাবুগঞ্জের ভেতরদিয়ে বয়ে যাওয়া সবগুলো নদীর ভাঙন স্পট চিহ্নিত করে বাঁধের ব্যবস্থা করতে চাই এবং নদী কেন্দ্রীক পাড় অঞ্চলগুলোকে বিনোদনের প্রধানতম কেন্দ্রস্থল করতে চাই। মই মার্কার প্রার্থী মো. আজমুল হাসান জিহাদ বলেন, মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলায় দুইটি হাইটেক পার্ক এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ ও গতিশীল ইন্টারনেট ব্যবস্থা চাই। যাতে করে মেধাবী তরুনরা বিশ্বের সম্ভাবনা হিসেবে নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে পারে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ অনলাইন লাইব্রেরি এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একটা করে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও প্রতিটি ওয়ার্ডে একটা শাখা লাইব্রেরি করতে চাই। যেখানে অত্র এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের ছবিসহ তালিকা এবং লোকো ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকবে। দুই উপজেলায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে চাই, যাতে কাজের জন্য শহরে যেতে না হয় এবং বেকরারত্ব থেকে মুক্তি মিলে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে শস্য সংরক্ষণশালা ও কৃষি সেন্টার করতে চাই। যাতে কৃষক তার সুবিধামতো সময়ে উপযুক্ত মূল্যে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারেন এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিতে পারেন। নকলমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘুষ মুক্ত অফিস এবং দূর্নীতি ও মাদকমুক্ত দেশ চাই। যারা খাদ্যে ভেজাল মেশায় এবং মজুদ ও চোরাচালান করে বাজার মূল্য বাড়ায় তাদের ফাঁসির আইন চাই। স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থা চাই, যাতে আইল ঠ্যালা ঠ্যালি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়। প্রবাসী ভাষা শিক্ষাসহ টেকনিক্যাল কাজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করতে চাই। এই প্রতিষ্ঠান প্রবাসে যাওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ফ্রিতে করে দিবে, যাতে আদম ব্যবসায়ীদের ঠকবাজি বন্ধ হয়। এছাড়াও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মানব সম্পদ হিসেবে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে চাই। যেহেতু তারা আরবি ভাষা জানে সুতরাং অন্যদের তুলনায় তাদের জন্য ভালো চাকরি পাওয়ার সুযোগ আছে। সেটাকে দেশের স্বার্থে কাজে লাগাতে চাই। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটা কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রতিটি ইউনিয়নে ১০০ শয্যার এবং প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ৫০০ শয্যার একটা আধুনিক হাসপাতাল ও প্রতিটি ইউনিয়নে একটা করে ভ্রাম্যমান হাসপাতাল গড়তে চাই। যেখানে সর্বক্ষণ এ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, নার্সসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকবে এবং কল করার সাথে সাথে ভ্রাম্যমান হাসপাতাল বাড়িতে চলে আসবে। স্মার্ট অনলাইন ব্যবস্থা চাই। যেন সকল সরকারি ও অফিসিয়াল কার্যক্রম ঘরে বসেই করতে পারি। গদ বাঁধা মুখস্ত বিদ্যার সার্টিফিকেট নয়, কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চাই। যাতে পড়াশোনার পাশাপাশি উপার্জন করার সক্ষমতা তৈরি হয়। শুধু সরকারি চাকরির পিছনে না থেকে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বিনাসুদে লোন দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরী করতে চাই। বিশেষ করে নারীদেরকে ঘরে বসে হস্ত ও ক্ষুদ্র শিল্পের প্রশিক্ষণসহ বিনাসুদে লোন দিয়ে নানান প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সামাজিকভাবে আগ্রহ তৈরি করতে চাই। যাতে করে প্রতিটি পরিবার হয় একটা প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি ইউনিয়নে একটা করে কলেজ করতে চাই। যাতে নিজ গ্রামে থেকেই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে একটা করে ঈদগাহ মাঠ করতে চাই। যেখানে সারাবছর খেলাধুলা ও শরীর চর্চা করতে পারবে এবং ঈদের সময় সমগ্র ইউনিয়নবাসী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে বড় জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করে শুভেচ্ছা বিনিময় করবে। এতে করে সকলের মধ্যে আন্তরিকতা শতভাগ বৃদ্ধি পারে। এছাড়াও প্রতিটি ইউনিয়নে একটা করে সরকারি কবরস্থান ও শ্মশান ঘাট করতে চাই। জনতার ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্টানে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট জোটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও বাসদের সহকারি সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবির বরিশাল জেলার সভাপতি প্রফেসর মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।