৫ আগস্ট সফল করেছি, ১২ ফেব্রুয়ারিও সফল করবো: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
৫ আগস্ট সফল করেছি, ১২ ফেব্রুয়ারিও সফল করবো: নাহিদ ইসলাম

ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৫ আগস্ট যেভাবে আন্দোলন সফল করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনটিও সফল করা হবে। তিনি দাবি করেন, ওই দিন ১১ দলীয় জোটের বিজয় নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরবেন তারা। ভোটার, বিশেষ করে মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা-১১ আসনের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাড্ডা ও ভাটারার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ইনফরমাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষের সংখ্যাই এখানে বেশি। শিক্ষিত বেকারের হার প্রায় আট থেকে ১০ শতাংশ হলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। এই এলাকায় কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুবই সীমিত। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষ পুরোপুরি বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল।

বর্ষা মৌসুমে এলাকার দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা পানির নিচে চলে যায়। জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের সমস্যা। ৭০ শতাংশ এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। রামপুরা ও শাহজাদপুর খালসহ আশপাশের জলাশয় দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

তার ভাষায়, ঢাকা-১১ আসনের প্রধান সমস্যা রাজনৈতিক। তিনি বলেন, “এই এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা ভূমিদস্যুতা। শত শত মানুষের খাস জমি ও জলাশয় দখল করে নেওয়া হয়েছে। বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে।” নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, ৫ আগস্টের আগে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ও তাদের স্থানীয় নেতারা এসব ভূমি দখলে জড়িত ছিল এবং ভাগাভাগি করে সুবিধা নিয়েছে।

ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “একজন বিদেশে থেকেও রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মাধ্যমে ভূমি দখলের ভাগ পেতেন। ৫ আগস্টের পর একজন দেশে ফিরে এসেছেন, আর দখল ও চাঁদাবাজির জায়গায় অন্যজন বসেছেন। এই এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে জনগণের বিরুদ্ধে তারা কাজ করেছে।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি এই ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও ঋণখেলাপিদের পরাজিত করার সুযোগ এসেছে। তিনি আশ্বাস দেন, যারা ভূমি হারিয়েছেন তাদের জমি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সম্ভব না হলে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য আমরা দূর করবো ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও দাবি করেন, ১১ দলীয় জোট শুধু ঢাকা-১১ নয়, সারা বাংলাদেশে সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। তার ভাষায়, “এটি আগামীর বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেওয়ার ঐক্যজোট।”

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে। ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নাহিদ ইসলামের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই এলাকায়। ইনসাফের বাংলাদেশে জনগণের রায় ও আল্লাহর মেহেরবানিতে বিজয় এলে তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে পাবেন।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ রায় দেবে। তার ভাষায়, “ঋণখেলাপিদের আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতি দমন করা যায় না। এই রাজনীতি জনগণ আর চায় না।”

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সাবেক প্রার্থী ও শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে