বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি)। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এর শর্ত ও বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশীরউদ্দিন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার। এই বাজার ধরে রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতেই এ বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শেখ বশীরউদ্দিন জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ কিনতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মোট ৪৭টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে আপাতত প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এর শর্তাবলি ও অন্যান্য বিষয় জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারকে চাপমুক্ত রাখার লক্ষ্যেই জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
দায়িত্ব ছাড়ার আগেই সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন জানিয়ে শেখ বশীরউদ্দিন বলেন, “আমার সম্পদের বিবরণী তৈরি হয়েছে। আমার আগেও ২২ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি ২৩তম চেয়ারম্যান। আমিই একমাত্র চেয়ারম্যান নই।”
এ সময় তিনি জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তিকে দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবেও উল্লেখ করেন।