আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) আসনে জাপা’র মনোনিত (লাঙ্গল) প্রার্থী এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল রোববার বেলা আড়াইটার দিকে লিখিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মহল বিশেষের ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের হুমকিতে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাপা প্রার্থী। প্রেস-বিজ্ঞপ্তি ও মৃধার পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে প্রতিহিংসায় মৃধাকে তিনটি মিথ্যা বানোয়াট মামলার আসামী করা হয়। মূল উদ্যেশ্য আমাকে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। অথচ ওই মামলার ঘটনার গুলোর সাথে তাঁর কোন ধরণের সম্পৃক্ততা ছিল না ও নেই। মামলায় উল্লেখিত ঘটনার সময়ে মৃধা সংসদ সদস্যও ছিলেম না। আগামী সংসদ নির্বাচনে জাপা জিয়াউল হককে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেন। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে মৃধা স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি। উনার পক্ষে স্থানীয় জাপা’র নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ে মৃধাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপরই তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরূ করেন নির্বাচনী প্রচারণা। প্রচারণা শুরূর পর মৃধা ও তাঁর দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন মহল থেকে ভয়ভীতি গ্রেফতারের হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে। যা আজও চলমান রয়েছে। প্রতিদ্বন্ধী অন্যান্য প্রার্থীর মতো সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বত:স্ফূর্ত ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছেন না। এমন প্রতিকূল পরিবেশে তিনি তাঁর দলের সকল নেতাকর্মীে সিদ্ধান্তক্রমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর মত কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উনার সকল ভোটার সমর্থক শুভাকাঙ্খী আত্মীয়-স্বজন ও নেতাকর্মীদের পাশে থাকায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সেইসাথে এমন অনাকাঙ্খিত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। নির্বাচনী এলাকার সকলের নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য ও শান্তি কামনা করেছেন। প্রসঙ্গত: জিয়াউল হক মৃধা মহাজোটের প্রার্থী হয়ে গত ২০১৪ ও ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে টানা দুইবার এই আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। উনি ১০ বছরে এলাকার যোগাযোগ, শিক্ষাসহ বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়নমূলক কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উনার হাতেই স্বপ্নের সরাইল-অরূয়াইল সড়ক, অরূয়াইলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ভ্যেনু করা সম্ভব হয়েছিল।