বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় পুলিশের এক এএসআই ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে জমি জবরদখল এবং নিরীহ পরিবারের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় উপজেলার কাচনা মধ্যপাড়া এলাকার একাধিক পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী নুরুন্নাহার জানান, তারা তিন বোন। তাদের কোনো ভাই নেই। পিতা বজলুর রহমান বেনু একজন অসহায় ও নিরীহ মানুষ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুলিশের এএসআই হাফিজুর শেখের স্বজনরা তাদের ২১ শতাংশ ফসলি জমি বর্গা চাষের নামে দখলে নেন। শুরুতে বিশ্বাস করে জমি দিলেও ফসলের ন্যায্য অংশ না পাওয়ায় চলতি মৌসুমে নিজেরাই জমিটি চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ জানুয়ারি নিজেদের জমিতে ধান রোপণ করতে গেলে বর্গা চাষিরা রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তার বৃদ্ধ পিতা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মোল্লাহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর বর্গা চাষের অজুহাতে অভিযুক্ত ইবাদ বর্তমানে জেল হাজতে থাকলেও, অন্য আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে কিংবা জামিন না নিয়েই এলাকায় অবস্থান করে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নুরুন্নাহার। এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশের একজন সদস্যের স্বজন হওয়ায় অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি দখল ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে এএসআই হাফিজুর শেখের ভাই ও মামলার আসামি সাইদ শেখ বলেন, “আমরা আমাদের কেনা জমিতেই চাষ করি। কারো জমি জবরদখল করিনি। যাদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ আছে তারাই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।” এ প্রসঙ্গে মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামিপক্ষের অভিযোগেও আরেকটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন।