আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী–৪ (বাগমারা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারীর পক্ষে বাগমারায় এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল খালেক।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী বলেন, “আমরা একটি নিরাপদ, মানবিক ও উন্নত বাগমারা গড়তে চাই—যেখানে নারী ও পুরুষ সবাই সমান মর্যাদায় বসবাস করবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, বাগমারার সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ডা. আব্দুল বারী বলেন,“জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে এই জনপদে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হবে।”
নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার কামরুজ্জামান হারুন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক, রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর এস এম ইসমাইল হোসেন, জেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য আহাদ আলী কবিরাজ, ভবানীগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর আশরাফুল ইসলাম আশিক, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, তাহেরপুর পৌর জামায়াতের আমীর শহীদুজ্জামান মীর, শামসুল আলম, এমসিপি নেতা মীর ফারুক হোসেন, আলী মর্তুজাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, বাগমারার মানুষ এখন দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সততা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সভা শেষে ‘নিরাপদ ও উন্নত বাগমারা গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন’—এই স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ, তরুণ ও প্রবীণ ভোটারের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয় এবং এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।