২০ ফেব্রুয়ারি বইমেলা হলে অংশ নেবেন না ৩২১ প্রকাশক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
২০ ফেব্রুয়ারি বইমেলা হলে অংশ নেবেন না ৩২১ প্রকাশক

বর্তমান বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ শুরুর সরকারি সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন দেশের ৩২১ জন সৃজনশীল প্রকাশক। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পবিত্র রমজান ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারিতে মেলা হলে মানবিক ও ব্যবসায়িক কারণে তাতে অংশগ্রহণ করবেন না।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশকরা এই অবস্থানের কথা জানান। বিবৃতিতে বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্তকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ ও ‘আত্মঘাতী’ উল্লেখ করে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত প্রকাশনা শিল্পকে প্রবল অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রকাশকরা মনে করছেন, বইমেলা কোনো সরকারি রুটিন কাজ বা কেবল আমলাতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মিলনমেলা। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পরপরই রোজার মধ্যে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে সেই মিলনমেলার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

যৌথ বিবৃতিতে কেন ঈদের পর মেলা চান, সে বিষয়ে বাস্তব তিনটি সংকট তুলে ধরা হয়। প্রকাশকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যেই রমজান শুরু হবে। রোজার দিনের তীব্র গরম ও যানজট পেরিয়ে পাঠকরা মেলায় আসবেন না। এতে পাঠকহীন মেলা তৈরি হবে, যা আয়োজক ও প্রকাশক উভয়ের জন্যই বিব্রতকর।

মানবিক দিকটি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। প্রকাশকরা বলেন, মেলার স্টলে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাজ করেন। সারাদিন রোজা রেখে, ইফতার ও তারাবিহ নামাজের পর তাদের দিয়ে কাজ করানো অমানবিক। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের এমন কষ্টের মধ্যে ফেলতে তারা রাজি নন।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয় বিবৃতিতে। প্রকাশকদের মতে, গত দেড় বছর ধরে প্রকাশনা শিল্প গভীর মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আরেকটি সম্ভাব্য ব্যর্থ মেলায় অংশ নিলে অবশিষ্ট পুঁজি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা অনেক প্রকাশকের জন্য অস্তিত্ব সংকট তৈরি করতে পারে।

প্রকাশকরা জানান, তারা বাংলা একাডেমির পাশাপাশি সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছেও তাদের দাবি তুলে ধরেছিলেন। তবে নীতিনির্ধারক মহল প্রকাশকদের এই সংকট অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে নেওয়া আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে একটি সৃজনশীল শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়লে তার দায়ভার সরকার এড়াতে পারে না।”

বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে এপ্রিলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কার কথা বলা হলেও প্রকাশকরা জানিয়েছেন, ঈদের পর মেলা হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিতে তারা প্রস্তুত। তবে জেনেশুনে রোজার মধ্যে মেলা করে ‘নিশ্চিত ব্যবসায়িক ক্ষতি’র পথে হাঁটবেন না।

যৌথ বিবৃতিতে ৩২১ জন প্রকাশক বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজিত হলে মানবিক ও ব্যবসায়িক কারণে আমাদের পক্ষে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর মেলা হলে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেব এবং মেলা সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

প্রকাশকরা জেদ পরিহার করে উৎসবমুখর পরিবেশে বই কেনাবেচার সুযোগ তৈরির জন্য ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি জানিয়ে বাংলা একাডেমি ও সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে