প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সহ তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ আমলে নিয়ে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁদের স্বশরীরে আগামী ৫ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে । সিএমএম আদালত ৫ এ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন -পিবিআই দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে এ আদেশ দেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম। মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আসামীরা হলেন টয়োটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালয়েশিয়ার নাগরিক প্রেমিত সিং , টয়োটা টুশো এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাপানি নাগরিক আকিও ওগাওয়া এবং টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ রহমান। আদালত জানায়, নাভানা লিমিটেডের করা একটি ফৌজদারি অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পিবিআই প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ মেলায় আদালত অভিযোগ আমলে গ্রহণ করে। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তরা যৌথ অভিপ্রায়ে নাভানা লিমিটেডের আর্থিক ও সুনাম ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে একচেটিয়া পরিবেশনা (ডিস্ট্রিবিউশন) ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে ৪১৭ ধারায় প্রতারণার অভিযোগে অপারেশনাল তথ্য বিকৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ শুল্কসংক্রান্ত নথি গোপনের বিষয়টি উঠে আসে। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে গ্রাহকদের অর্ডার ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাহত করার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা তদন্তকারীরা ‘অর্থনৈতিক নাশকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এতে নাভানা লিমিটেডের বাজার সুনাম ক্ষুন্নের উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করা হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্ল্যেখ, গতবছরের ৯ জুলাই নাভানা লিমিটেডের পক্ষে শফিউল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির প্রতিষ্ঠান টয়োটা টুশো কর্পোরেশনের ব্যবসায়িক পার্টনার নাভানা লিমিটেড। নাভানা দীর্ঘদিন ধরে টয়োটা টুশো করপোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য টয়োটা ব্র্যান্ডের একক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তবে অভিযুক্তরা এই একক ডিস্ট্রিবিউটরশিপ ব্যবস্থা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নাভানা লিমিটেডের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট বাজার পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।