২৮টি চা-বাগানের শ্রমিক ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন প্রদান

এফএনএস (মোঃ আলাউদ্দিন রনি; মাধবপুর, হবিগঞ্জ) : | প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:১৫ এএম
২৮টি চা-বাগানের শ্রমিক ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন প্রদান

হবিগঞ্জ-৪(মাধবপুর-চুনারুঘাট)আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস.এম.ফয়সল বলেছেন-চা বাগানের শ্রমিকরা বছরের পর বছর অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। তাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। আমি নির্বাচিত হলে এসব খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, নারীর মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন। প্রতিটি বাগানে মানসম্মত স্কুল, স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, নিরাপদ বাসস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ করব। চা-শ্রমিকদের ঘরে আলো জ্বালাতে পারলে, তাদের সন্তানদের হাতে বই তুলে দিতে পারলে, একজন শ্রমিক যদি নিশ্চিন্তে বলতে পারেন-“আমার ভবিষ্যৎ নিরাপদ”-তবেই আমার রাজনীতির সার্থকতা। সকল মানুষ সমতার ভিত্তিতে নাগরিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। কোন মানুষ বৈষম্য শিকার হবে না। কোন ধরনের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী থাকবে না। হিন্দু-মুসলমান সম্মান-মর‌্যাদা নিয়ে বসবাস করবে। রোববার রাতে সুরমা চা-বাগানের ১০ নং মাঠে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৮টি চা-বাগানের শ্রমিকরা ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন প্রদান অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা গুলো বলেন। সমাবেশে চুনারুঘাট উপজেলার ২৩টি ও মাধবপুর উপজেলার ৫টি চা বাগান থেকে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ চা শ্রমিক অংশ নেন। ঢাকঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ব্যানার, ফেস্টুন ও ধানের শীষ প্রতীক সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শ্রমিকরা মিছিল সহকারে সভাস্থলে প্রবেশ করেন। পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উদ্দীপনা। চা বাগান নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, এবারই প্রথম এত বড় পরিসরে চা শ্রমিকদের অংশগ্রহণে কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। তারা দাবি করেন, ২৮টি চা বাগানের প্রায় ৭৫ হাজার ভোটার ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে চা শ্রমিকরা নিজেদের অধিকার, ময়ার্দা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তারা উল্লেখ করেন। চা শ্রমিক নেতা অবিরত বাক্তি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিরাপত্তার সংকটে ভুগছেন। আজ আমরা একত্র হয়েছি শুধু ভোট দেওয়ার জন্য নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য। ব্যালটের মাধ্যমেই আমরা আমাদের অবস্থান জানাব।” বিশেষ অতিথির বক্তব্ রাখতে গিয়ে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন- যাদের ঘামে দেশের অর্থনীতি সবুজ থাকে, কিন্তু যাদের জীবন আজও রঙিন হয়নি। তারা হলেন আমাদের চা-শ্রমিক ভাই ও বোনেরা।চা-শ্রমিকরা যুগের পর যুগ ধরে নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে তারা বাগানে নামেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাতা তোলেন, অথচ দিনের শেষে তাদের প্রাপ্য সম্মান, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। এটি কোনো দয়া নয়-এটি তাদের ন্যায্য অধিকার।অনেক চা-শ্রমিক পরিবার ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অসুস্থ হলে হাসপাতালে যেতে কষ্ট হয়, সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ সীমিত, নিরাপদ বাসস্থান ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়ে গেছে। তাদের সংকট দূর করতে পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। তাদের দারিদ্র্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। সভায় শাহজাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারবেজ হোসেন, শাহজাহানপুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলফাজ মহালদারসহ চা-বাগানের পঞ্চায়েত নেতারা বক্তব্য রাখেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে