বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটি জাতীয় সংসদের ৪০ নম্বর নির্বাচনী এলাকা। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪২ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ৪২০ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছে ০৬ জন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ভোটার থাকায় এবারের নির্বাচনে তরুণ ও নারী ভোটারদের মন জয় করাই প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া-৫ আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে একাধিক আসন হারানোর পর দলটি আবারও দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া। বিএনপির প্রার্থী শেরপুর-ধুনটের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবার পঞ্চমবারের মতো রাজনৈতিক চমক দেখাতে মাঠে নেমেছেন। অন্যদিকে, একক প্রার্থী দিয়ে প্রথমবারের মতো এই আসনে জয়ের স্বাদ পেতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রার্থী শেরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা আলহাজ্ব দবিবুর রহমান নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ সক্রিয় সময় পার করছেন। নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, ১৯৭৩ সালে প্রথম বগুড়া-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান পটল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে বিএনপির সিরাজুল হক তালুকদার জয়ী হন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির শাহজাহান আলী তালুকদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর টানা চারবার বিএনপি এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা চারবার আওয়ামী লীগ এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করে। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি পাঁচবার এবং জাতীয় পার্টি একবার জয় পেলেও এখন পর্যন্ত জামায়াত এই আসনে জয়ের মুখ দেখেনি। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা। বাজারের মোড়, স্কুলের গেট, কৃষকের ধানক্ষেত-সব জায়গাতেই চলছে সরাসরি গণসংযোগ। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, স্থানীয় সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চলছে দিন-রাত।
চারবারের সাবেক এমপি আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন,
“আমি এই আসন থেকে চারবার এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে একবার-মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য ছিলাম। নির্বাচন আমার জন্য নতুন কিছু নয়। ইনশাআল্লাহ, আগামী নির্বাচনে ষষ্ঠবারের মতো এমপি নির্বাচিত হব।”
জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আলহাজ্ব দবিবুর রহমান বলেন,
“আমি পাঁচ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। মানুষের সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখেছি ও জেনেছি। সংসদ সদস্য হলে সবার আগে জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধানে কাজ করব।”
এলাকাবাসীর প্রধান অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বেহাল রাস্তাঘাট, গ্রামীণ সড়ক ও সেতু উন্নয়নে বরাদ্দের ঘাটতি, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গ্যাস সংকট। এসব বিষয়ই এখন প্রার্থীদের নির্বাচনী অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে।
এলাকাবাসী তৌহিদ উদ্দিন রোমান বলেন,
“আমাদের এলাকায় রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন খুব জরুরি। শেরপুরবাসীর জন্য গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। চাঁদাবাজি ও বেকারত্বমুক্ত সমাজ গড়াই আমাদের প্রত্যাশা।”
ভোটার আব্দুল মমিন বলেন,
“আমরা চাই শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে। যে প্রার্থী আমাদের এলাকায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন করবে, আমরা তাকেই ভোট দেব।”
এদিকে এবারের নির্বাচনে বিশেষ নজর রয়েছে শেরপুর পৌরসভাকে ঘিরেও। পৌরবাসী ফখরুল ইসলাম সবুজ বলেন,
“শেরপুর পৌরসভাকে আর দেউলিয়া হিসেবে দেখতে চাই না। একজন পৌরবাসী হিসেবে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার সব সুযোগ-সুবিধা আমাদের প্রাপ্য।”