দিনাজপুর-০১ আসনে

দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হাড্ডা-হাড্ডি লাড়াইয়ের সম্ভাবনা

এফএনএস (আবুল হাসান জুয়েল; বীরগঞ্জ, দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হাড্ডা-হাড্ডি লাড়াইয়ের সম্ভাবনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দিনাজপুরু১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) নির্বাচনী আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের  মো. মনজুরুল ইসলাম মনজু ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের মোঃ মতিউর রহমানের মধ্যে। এছাড়াও এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর পক্ষে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মো. চাঁন মিঞা, জাতীয় পার্টির পক্ষে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মোঃ শাহিনুর ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ পক্ষে ট্রাক প্রতিক নিয়ে মো রিজুওয়ানুল ইসলাম এবং জাকের পার্টির পক্ষে গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে রঘুনাথ চন্দ্র রায় নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠে রয়েছেন।

বিগত দিনে জোটগত নির্বাচন করলেও এবারে ভোটের মাঠে দুই দলই কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। ফলে জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের নির্বাচণি প্রচারনা। প্রার্থীরা ও তাদের কর্মীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটাররে দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজের ও দলের বিভিন্ন প্রতিস্রুতি দিয়ে ভোট চাচ্ছেন নিজ নিজ প্রতিকে । সভা ,সমাবেশ,্ মাইকিং, শে­াগান, আর ব্যানারে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমগ্র এলাকা।  অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় স্বাধীনতার পর থেকে বেশিরভাগ সময়ে এই আসনে জয়ী হতো আওয়ামীলীগের প্রার্থীগন। তবে ১৯৮৬সালে জাতীয় পার্টির মোঃ আনিসুল হক রিজু, ১৯৯৬সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত সৈয়দ রেজা হোসেন নির্বাচিত হন।  ২০০১সালে চারদলীয় ঐক্য জোটের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল­াহ-হেল- কাফি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোরঞ্জন শীল গোপাল জয়ী হন। পরবর্তীতে মনোরঞ্জনশীল গোপাল আওয়ামী লীগে যোগদান করে ২০০৮ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। এরপর ধারাবাহিকভাবে তিনি এমপি থাকলেও ২০২৩সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাকারিয়া জাকার কাছে পরাজিত হন। তবে এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় তাদের দুর্গ দখলে নিতে চায় বিএনপি ও জামায়াত। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সকল প্রার্থীই আওয়ামীলীগের  ভোটারদের ভোট তাদের পক্ষে নেওয়ার বিভিন্নভাবে কলা কৌশল গ্রহণ করছে। উলে­খ্য , কাহারোল-বীরগঞ্জ ২টি উপজেলা ও ১টি পৌরসভা ,১৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে ৬১৮ বর্গ কি.মি. আয়তন এই দিনাজপুর-১ আসন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ১৭ হাজার ১শত ৩৩ জন ও হিজড়া ২ জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৮ হাজার ৯শত ১৯ জন ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১৮ হাজার ২শত ১২ জন। বীরগঞ্জ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩শত ১১জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩ শত ৯১ ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯শত ১৯ জন। হিজড়া ১ জন। কাহারোল উপজেলয় ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮ শত ২২ জন। পুরুষ ৬৯ হাজার ৫ শত ২৮ জন ও মহিলা ৬৯ হাজার ২ শত ৯৩ জন। হিজড়া ১ জন। 

সরকারি ভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু ভোটের কোন পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও মোট জনসংখ্যার হার পর্যালোচনা করে পাওয়া যায় যে  বীরগঞ্জএ প্রায় ২৭ পারসেন্ট ও  কাহারোলে প্রায় ৪৬ পার্সেন্ট হিন্দু ভোটার । সেই হিসেবে এই আসনে মোট হিন্দু  ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার ।এবং ভোটের ফলাফলে এই সংখ্যালঘু ভোট একটি বিরাট প্রভাব বিস্তার করে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচনী বিশে­ষক বলেন, হিন্দু ভোটার উপস্থিতি এই নির্বাচনের ফলাফলে একটি বড় ফ্যাক্টর এবং প্রাথিদের শেষ মুহুর্তের কৌশলই দিনাজপুর-১ আসনের ভাগ্য নির্ধারন করবে।  সাধারন ভোটাররা মনে করছেন দীর্ঘদিন তারা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। দিনের ভোট রাতেও মৃত ব্যক্তির ভোটও ফ্যাসিস্টদের দোশররা সীল মেরে দিয়েছিল। ফ্যাসিস্ট  নেই এবার স্বাচ্ছন্দে নিজের ভোট পছন্দের প্রার্থীকে দিতে পারব।এলাকার উন্নয়নে এবং মানুষের সুখ-দুঃখে যারা পাশে থাকবেন তাদেরকে নির্বাচিত করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে