ক্ষমতায় এলে ১৩ তারিখ থেকেই উন্নয়ন শুরু হবে, আশ্বাস তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ক্ষমতায় এলে ১৩ তারিখ থেকেই উন্নয়ন শুরু হবে, আশ্বাস তারেক রহমানের

দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রশ্নে বিএনপিই একমাত্র কার্যকর শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অতীত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব সাফল্যের কারণেই বিএনপি দেশের দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার সক্ষমতা রাখে। আসন্ন নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে ঢাকা-৯ আসনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। একই দিন তিনি কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে ঢাকা-১০ আসনসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।

তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারই দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে সেটিকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিল। তার ভাষায়, “দুদককে কোনো অনুমতির বেড়াজালে আটকে রাখা হয়নি। যে কারও বিরুদ্ধে তদন্ত করার পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল।” তিনি দাবি করেন, ২০০১ সালে সরকার গঠনের সময় বিএনপি ও বাংলাদেশের গায়ে দুর্নীতির যে তকমা ছিল, ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় বিএনপি সরকার সেই তকমা ঘুচিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল।

নির্বাচনী জনসভাগুলোতে তারেক রহমান দেশবাসীকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “অপ্রয়োজনীয় আলোচনা বাদ দিয়ে এখন সময় দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার।” অন্য দেশগুলো যখন নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, তখন বাংলাদেশ কেন পারবে না, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ঢাকা-৯ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “১২ তারিখের ভোটে বিএনপি নির্বাচিত হলে ১৩ তারিখ থেকেই এই এলাকার উন্নয়নে কাজ শুরু হবে।” নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবার জন্য হাসপাতাল স্থাপন, রাস্তাঘাট উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি জরাজীর্ণ বাঁশের সেতুগুলো স্থায়ীভাবে পাকাকরণের কথাও জানান।

ঢাকা-৮ ও ঢাকা-১০ আসনের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের নির্বাচন।” ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকার সমস্যার সমাধান ঘরের মানুষই ভালোভাবে করতে পারে।

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, সরকার গঠন করলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। তরুণদের জন্য আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

নির্বাচন নিয়ে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের ব্যাপারেও সতর্ক করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “নকল সিল বা বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।” কারও কাছ থেকে বিকাশ নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য চাওয়া হলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জনসভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “বাংলাদেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশ।” তার মতে, বিএনপি শুধু অতীত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করছে না, বরং সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হয়েছে, যার লক্ষ্য একটাই, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে