বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানে এক ধাপ উন্নতি। গত বছর ১৪তম অবস্থানে থাকার পর এবার এক ধাপ কমিয়ে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। ১৮২টি দেশের মধ্যে ১০০-তে ২৪ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের এই অবস্থান। উচ্চক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম।
বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণাসূচক (সিপিআই) ২০২৫-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)। রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজেদের কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে আজ মঙ্গলবার সকালে প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবি মনে করছে, এ বছর বাংলাদেশের এক পয়েন্ট স্কোর বৃদ্ধির পেছনে জুলাই অভ্যুত্থানের ফলশ্রুতিতে সূচিত গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সুশাসন অর্জনে অব্যবহিত ইতিবাচক সম্ভাবনার প্রভাব কাজ করেছে। তবে রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়ার পরবর্তী বাস্তবতার প্রতিফলন- সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রের মেয়াদভুক্ত ছিল না। টিআইবি বলছে, এবার কোনো দেশ শতভাগ স্কোর করতে পারেনি।
এদিকে, এ বছর ৮৯ স্কোর নিয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে আছে ডেনমার্ক। আর ৯ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে আছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া। বিশ্বের ৮০ ভাগ মানুষ বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে বসবাস করে। বৈশ্বিকভাবে দুর্নীতির ব্যাপকতা বাড়ছে। যেসব দেশ গণতন্ত্রের কথা বলে তাদের দেশেও দুর্নীতি ঊর্ধ্বমুখী।
তাই রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হওয়ায় আদতে বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থানের খুব একটা ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করে টিআইবি।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে।
সিপিআইয়ের দুর্নীতির ধারণার মাত্রাকে ০ (শূন্য) থেকে ১০০ (এক শ)-এর স্কেলে নির্ধারণ করা হয়। ‘০’ স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ‘১০০’ স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত বা সর্বাধিক সুশাসিত বলে ধারণা করা হয়।
২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪তম। আর ২০২৩ সালে এই অবস্থান ছিল ১০ম। চার ধাপ এগিয়ে যাওয়ার কারণ দেশে দুর্নীতি কমেনি, বরং বাংলাদেশ নম্বর আরও কম পেয়েছিল।