সাতক্ষীরার ৪ আসনে ভোটের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

নিরাপত্তার চাদরে ৬০৯ কেন্দ্র, সংবাদ সংগ্রহে ৭৯১ সাংবাদিক

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) :
| আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম | প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
নিরাপত্তার চাদরে ৬০৯ কেন্দ্র, সংবাদ সংগ্রহে ৭৯১ সাংবাদিক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাতক্ষীরা জেলার ৪টি সংসদীয় আসনেই এখন সাজ সাজ রব। দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা এই সীমান্ত জেলায় ভোট গ্রহণ ও সংবাদ সংগ্রহের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিস। এদিকে জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, সাতক্ষীরার ৪টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ৬০৯টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৩ হাজার ৩৭২টি ভোটকক্ষে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের তত্ত্বাবধানে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম ইতিমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার জানিয়েছেন, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এদিকে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ ও তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। জেলায় কর্মরত প্রায় ১২০০ সাংবাদিকের মধ্যে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে কার্ড সংগ্রহ করেছেন ৭৯১ জন সাংবাদিক। তারা নির্বাচনের দিন জেলার প্রতিটি কেন্দ্রের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আলাদা দিকনির্দেশনাও প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন। সাতক্ষীরার ৪টি আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৯ জন এবং নারী ভোটার ৯ লাখ ১৪ হাজার ৮২৭ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৩ জন। নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা এবার উল্লেখযোগ্য, যার মধ্যে নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ৬৭ হাজার ২৩৩ জন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবার সাতক্ষীরার প্রতিটি আসনেই দ্বিমুখী ও ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় মাঠ গরম করে রেখেছেন। প্রার্থীরা এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন ও উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধের ইস্যুটি ভোটারদের প্রধান চাহিদায় পরিণত হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ভোট উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো সাতক্ষীরা এখন উৎসবমুখর। ব্যালটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কারা আগামী পাঁচ বছরের জন্য সাতক্ষীরাবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে