ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ

এফএনএস (আক্তার হোসেন ভূইয়া; নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :
| আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম | প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া -১ (নাসিরনগর) আসনে রাজনীতির মাঠে বাড়ছে উত্তাপ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া -১ নাসির নগর ২৪৩ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে। গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি নতুন ভোটারদের সমর্থন পেতে জোর প্রচারণায় তৎপর রয়েছেন প্রার্থীরা। তারা দিনরাত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কামনা করছেন। আর ভোটাররাও তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভালো-মন্দসহ এলাকার নানা দাবি নিয়ে আলোচনা করছেন। নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন গঠিত।  দুই  লাখ ৭৩ হাজার ৮২৭ ভোটারের এ আসনে ইতোমধ্যে  প্রার্থীরা নিজেদের প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ এবং উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। এতে করে নির্বাচনি মাঠে উত্তাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ সংসদীয় আসনে  বিএনপি থেকে কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেনি। বিগত নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭০ সালের পর আওয়ামী লীগ আটবার, জাতীয় পার্টি দুবার, ন্যাপ একবার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দুবার জয়ী হয়েছেন। তবে সময়ের পরিবর্তনেরর সঙ্গে সঙ্গে নাসিরনগরে রাজনৈতিক চিত্রেও এসেছে বড়ধরনের পরিবর্তন । ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় সারা দেশের মতো নাসিরনগরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে।এই পরিস্থিতিতে এবার সবমিলে ৮ জন প্রার্থী লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের লাইমলাইটে রয়েছে বিএনপি,জামায়াত ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিএনপির অবস্থান তুলনামূলক শক্ত হলেও দলের বহিষ্কৃত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট একেএম কামরুজ্জামান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বুড়িশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান ইকবাল চৌধুরীও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। ভোটযুদ্ধে প্রভাবশালী বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী এবং দুই স্বতন্ত্রকে ঘিরে স্থানীয় জনপদে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সকাল থেকেই প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নেমে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়, পথসভা ও গণসংযোগে অংশ নেন। এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল বিএনপি মনোনীত  প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং গোর্কণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান  এম এ হান্নান(ধানের শীষ প্রতীক),১০ দলীয় জোট সমর্থীত  বাংলাদেশ জামায়াতে  ইসলামীর মনোনীত  প্রার্থী অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল ইসলাম(দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত  প্রার্থী মাওলানা হোসাইন আহমদ(হাতপাখা প্রতীক) ,জাতীয় পার্টি মনোনীত  প্রার্থী এডভোকেট মোঃ শাহ আলম(লাঙ্গল প্রতীক) , ইনসানিয়াত বিল্পব বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী  ইঞ্জিনিয়ার শরিফ মৃধা(আপেল প্রতীক) ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ- সভাপতি, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং  ফান্দাউক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট এ কে এম কামরুজ্জামান মামুন(ঘোড়া প্রতীক), উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, বুড়িশ্বর ইউনিয়নের চারবারের সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইকবাল চৌধুরী( কলারছড়ি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান( হাঁস প্রতীক)।প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তারা নিজ নিজ নির্বাচনী অঙ্গীকার ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন । নাসির নগর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা নাসরিন জানান, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া -১ আসনের সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রয়েছে এবং সবাই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো প্রার্থী বা সমর্থক নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া -১ নাসির নগর সংসদীয় আসনে ৮০টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ১৮৬ জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৮ জন,মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৯৬ জন, এর মধ্যে ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে