মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে নয়ন-পিয়াস ডাকাত দলের এক সহযোগী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় শটগান, কার্তুজ, নয়টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি দ্রুতগামী ট্রলার।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন এলাকায় এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম জামাল হোসেন (৪৪)। তিনি নয়ন-পিয়াস ডাকাত দলের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে সদর দপ্তর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে চিহ্নিত ডাকাত রিয়াজের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শটগান, ৩ রাউন্ড গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় রিয়াজকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। রিয়াজের বাবা আকতারের বিরুদ্ধেও ২৭টির বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। মূলত নয়ন-পিয়াসের অনুপস্থিতিতে আকতারই এই ডাকাত দলের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে ডাকাত দলের বিভিন্ন আস্তানায় তল্লাশিকালে জামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জামাল ডাকাতদের চেনেন না বলে দাবি করলেও পরে তাঁর কাছ থেকে পিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পায় যৌথ বাহিনী। এ ছাড়া চর এলাকা থেকে ডাকাত দলের ব্যবহৃত একটি দ্রুতগামী ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। গজারিয়া আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গজারিয়া থানা-পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূলে সেনাবাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেকোনো সন্দেহজনক বিষয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী।