ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: ভোট গ্রহণ চলছে

এফএনএস সংবাদপ্রবাহ:
| আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১০:৫২ এএম | প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৩১ এএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: ভোট গ্রহণ চলছে
ছবি, সংগৃহিত

অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষে আজ সকাল সাড়ে ৭ টা থেকেই শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আলোচিত 'জুলাই গণ-সনদ' সংস্কারের ওপর গণভোটের ভোটগ্রহণ। সকালের রক্তিম সূর্য উঠার সাথে সাথেই যেন মানুষের মাঝে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঝাঁকে ঝাঁকে ভোট দিতে আসছেন সাধারণ জনতা। এবার ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সারা দেশে ৪২ হাজারের বেশি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে।

দীর্ঘদিন পর একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) আশা করছে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ হতে পারে। তবে উৎসবের আমেজ থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ইসি। 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এক ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে প্রথমবারের মতো একই দিনে ব্যালটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে রায় দেবেন ভোটাররা।

নির্বাচন কমিশন আগেই ঘোষণা দিয়েছে যে, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ১ ঘণ্টা বেশি সময় পাবেন ভোটাররা। সে অনুযায়, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। বিশেষ করে গণভোট ও নির্বাচন দু’টি এক সঙ্গে হওয়াতে এই সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।

তবে ভোটের ফলাফল নিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের পর দিন অর্থাৎ শুক্রবার সকালের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে ইসির আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, “পোস্টাল ভোটের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হলেও পরবর্তী কার্যক্রমগুলো ম্যানুয়েল বা সনাতন পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এই ভোটগুলো প্রতিটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসন অনুসারে গণনা করা হবে। তবে এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে; ভোটের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে যে ব্যালটগুলো ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছাবে, কেবল সেগুলোই চূড়ান্ত গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর পরে আসা কোনো ব্যালট গ্রহণ করা হবে না।”

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি:

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। 

সারা দেশে ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকছেন, যারা নির্বাচনি অপরাধের জন্য তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়ার ক্ষমতা পাবেন। এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ৯৫ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সকল বাহিনীর মহাপরিচালক।

র‍্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বুধবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বললেন, জঙ্গি হামলার কোনো নির্দিষ্ট হুমকি নেই। তবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বুধবার মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, “ঢাকায় ডিএমপির ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরের নিরাপত্তা ছাড়াও বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ও রিজার্ভ ফোর্স মোতায়েন থাকছে। পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াট, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে থাকবে।”

কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি বা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কোনো হুমকি বা ঝুঁকির আশঙ্কা করছি না। তবে আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে এবং পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।”

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে যেকোনো প্রকার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

নির্বাচনে অংশ

নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। ২৯৯টি আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। ফলে মূল লড়াইটা সীমাবদ্ধ থাকছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। বিএনপি ২৯১টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছে। অন্যদিকে জামায়াত জোটের শরিকদের নিয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন ২২৮ জন, পাশাপাশি জোটের শরিক এনসিপি, এবি পার্টি এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। 

সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস প্রধান নির্বাচন কমিশনারের

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের জন্য পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া হবে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য’। তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভোটারদের প্রধান উপদেষ্টার বার্তা:

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি ‘গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ উপলক্ষ্যে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে দেশের সব শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে