সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই গণ-সনদ’ সংস্কারের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭:৩০ মিনিটে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলে বিকাল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হয়েছে। ভোটের পরিসংখ্যান ও ভোটার উপস্থিতিসাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় এবার মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে নতুন ভোটার ৮৬ হাজার ৫৫১ জন। দিনশেষে জেলায় গড় ভোট প্রদানের হার দাঁড়িয়েছে ৭২.৭৩ শতাংশ। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৭০ দশমিক ৯৩ শতাংশ, দেবহাটা উপজেলায় ৭২ দশমিক ৫০শতাংশ, কলারোয়া উপজেলায় ৮১ দশমিক ৮৯ শতাংশ, তালা উপজেলায় ৭৫ শতাংশ, আশাশুনি উপজেলায় ৬৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, শ্যামনগর উপজেলায় ৬৮ শতাংশ এবং কালীগঞ্জ উপজেলায় ৭১ দশমিক ৯৮শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার দেখা গেছে। পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানান, জেলার ৬০৯টি কেন্দ্রের সবকটিই সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। এছাড়া ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ‘বডি অন ক্যামেরা’ ছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১১ হাজার ১৮৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি ৬০০ জন সেনাসদস্য মোতায়েন ছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ১৬ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দুর্গম উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগর ও আশাশুনির জন্য বিশেষ নৌযানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ সকাল ৭:৩০ টায় আলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথম ভোট দেন। একই সময়ে ধলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন জামায়াত প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আশরাফুজ্জামান আশু কাটিয়া লষ্করপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। সংসদীয় আসন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীজেলার ৪টি আসনে মোট ২০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সাতক্ষীরা-১: হাবিবুল ইসলাম হাবিব (বিএনপি), মো. ইজ্জত উল্লাহ (জামায়াত), জিয়াউর রহমান (জাপা) সহ ৫ জন। সাতক্ষীরা-২: আব্দুর রউফ (বিএনপি), মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (জামায়াত), আশরাফুজ্জামান আশু (জাপা) সহ ৫ জন। সাতক্ষীরা-৩: কাজী আলাউদ্দীন (বিএনপি), হাফেজ রবিউল বাশার (জামায়াত), স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমসহ ৬ জন। সাতক্ষীরা-৪: ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (বিএনপি), জিএম নজরুল ইসলাম (জামায়াত)সহ ৪ জন। এবারের নির্বাচনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘জুলাই গণ-সনদ’ সংস্কারের ওপর গণভোট। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোটাররা একই সাথে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। প্রচারণার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার এবং পোস্টার বর্জনের বিষয়টিও ছিল চোখে পড়ার মতো।বিচারিক তৎপরতা ও ফলাফল ঘোষণানির্বাচনী অনিয়ম রোধে ১০ জন প্রথম শ্রেণীর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও ৪ জন বিচারক মাঠে সক্রিয় ছিলেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ আফরোজা আক্তার জানান, ভোটগ্রহণ শেষে এখন গণনা চলছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সারা দেশ থেকে আসা ফলাফল সমন্বয় করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করা হবে।