ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনে ভোট গণনায় বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বাতিল ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টায় দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ভোট গণনায় কারচুপি করে ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ঢাকা-৮ আসনের কিছু কেন্দ্রে বোর্ড মার্কার বক্সের বাইরে পড়া ভোটগুলোকে অবৈধভাবে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। “আমরা দেখেছি যে খালি জায়গায় সিল দেওয়া হয়েছে এবং তা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাউন্ট করা হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে ফলাফল টেম্পারিংয়ের প্রমাণ,” বলেন আসিফ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বতঃসিদ্ধ সিদ্ধান্তে এই ভোটগুলো গণনা করা হয়েছে, যা ইসির কোনো নির্দেশনার ফল নয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, শুধু ঢাকা-৮ নয়, ঢাকা-১১, ১৫, ১৬ ও ১৭ আসনেও ফলাফল ম্যানিপুলেশনের চেষ্টা দেখা গেছে। “কিছু কেন্দ্রে সাতবার ভোট গণনা করা হয়েছে। মিডিয়ার ফলাফলের সঙ্গে সেন্ট্রাল ফলাফল মিলছে না। এটা কাকতালীয় নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত,” উল্লেখ করেন আসিফ। তিনি ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের আসনগুলোতে ভোট গণনায় টেম্পারিংয়ের উদাহরণও দেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসরকারিভাবে প্রার্থী বিজয়ী ঘোষণা করার আগে বাতিল ভোট পুনঃগণনা করা জরুরি। “যদি বিভ্রান্তিকর ফলাফলের মাধ্যমে কেউ ক্ষমতায় আসে, তবে তা সবার জন্য কনফিডেন্সের ঘাটতি তৈরি করবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যেই ক্ষমতায় আসুক, আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের সহায়তা করব,” যোগ করেন মুখপাত্র।
প্রতিবেদনকারীরা মনে করছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভোট গণনায় যে কোনো অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য নিবিড় নজরদারি ও স্বচ্ছতার প্রয়োজন রয়েছে।