ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ৬টি আসনে একটি আসনও পায়নি জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টি। দলের ভরাডুবির পাশাপাশি শীর্ষ দুই নেতা জিএম কাদের ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী ভোটের লড়াইয়ে হেরে গেলেন।
রংপুরে জাতীয় পার্টির ভরাডুবির বিপরীতে জয়জয়াকার হয়েছে জামায়াতের। ভোটে দলটির জোট সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আকতার হোসেন জয়ী হয়েছেন জেলার অপর আসনে। বিএনপির প্রার্থীরা অল্প ভোটের ব্যবধানে ছয় আসনেই দ্বিতীয় হয়েছেন।
রংপুর-৩ (সিটি কর্পোরেশনে ও সদর) আসনে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের তৃতীয় হয়েছেন। এদিকে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা- ১ আসনে একই স্থান অর্জন করেছেন।
প্রাপ্ত বেসরকারি তথ্যনুযায়: রংপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকারম হোসেন সুজন ধানের শীষে ৬৯ হজার ১৩১ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজাহারুল ইসলাম ধানের শীষে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার ধানের শীষে ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবার রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি শামসুজ্জামান সামু ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে জিএম কাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫। ২০২৪ সালে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে বিরোধী দলের নেতা হন।
রংপুর-৪ আসনে এনসিপির আকতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
রংপুর-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট।
রংপুর-৬ আসনে জামায়াতের নুরুল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।
অপরদিকে গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭। এখানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব পাটোয়ারী পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট।
এদিকে শুক্রবার ভোরে রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিজয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে আখতার হোসেন বলেন, রংপুরের ছয়টি আসনে ১১ দলীয় জোট একটি আসনে শাপলা কলি এবং পাঁচটি আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের মধ্য দিয়ে এবারের জাতীয় নির্বাচনে একদিকে আওয়ামী লীগ একবারে নেই হয়ে গেছে। সঙ্গে জাতীয় পার্টিও কিন্তু এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ফলাফল জাতীয় পার্টির জন্য শুধু নির্বাচনী পরাজয় নয়-এটি অস্তিত্ব সংকটের বার্তা। রংপুরে যেখানে একসময় দলটির নামেই ভোট পড়ত, সেখানেই এবার ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটের রায়ে কার্যত ‘রেড কার্ড’ দেখিয়েছেন ভোটাররা।
এক সময়ের শক্ত ঘাঁটিতে শূন্য হাতে ফেরা জাতীয় পার্টির সামনে এখন বড় প্রশ্ন-এই ভরাডুবির পর দলটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, নাকি রংপুর থেকেই শুরু হলো তাদের রাজনৈতিক প্রান্তিক হয়ে পড়ার নতুন অধ্যায়।