মাঘের শেষ সকালে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক আকাশে এক নতুন সূর্যের উদয় হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলের সনদ। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আক্তার যখন নির্বাচিত চার প্রতিনিধির হাতে ওই সনদ তুলে দিচ্ছিলেন, তখন সেই কক্ষ ছাপিয়ে সাতক্ষীরার জনপদে ছড়িয়ে পড়ছিল এক নতুন অঙ্গীকারের সুর।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া জামায়াতে ইসলামীর চার বিজয়ী প্রতিনিধিকে বরণ করে নিতে এদিন সকালেই হাজির হন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সাতক্ষীরা শহর শাখার নেতাকর্মীরা। তাঁদের হাত থেকে রজনীগন্ধা আর গোলাপের সুবাসে সিক্ত হন সাতক্ষীরা-১ আসনের মোঃ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের জি, এম, নজরুল ইসলাম। শুধু চার সাংসদই নন, ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল ও সেক্রেটারি আজিজুর রহমানসহ অন্যরাও। নতুনের এই আবাহন যেন আগামীর সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা গড়ারই এক প্রতীকী শুভ সূচনা।
ফলাফল গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় চার সংসদ সদস্যের কণ্ঠে ছিল বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সুর। তাঁরা সমস্বরে উচ্চারণ করেছেন ‘নতুন সাতক্ষীরা’ গড়ার অঙ্গীকার। তাঁরা বলেন, “এ জয় শুধু দলের নয়, এ জয় সাতক্ষীরার আপামর শোষিত মানুষের। আমরা এমন এক জেলা গড়তে চাই যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য, থাকবে না কোনো ভয়ের সংস্কৃতি।” শিক্ষা, কৃষি ও উপকূলীয় মানুষের অধিকার আদায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধিরা।
সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কড়া নিরাপত্তা আর সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ আফরোজা আক্তার তাঁর দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নাম ও ভোটের ব্যবধান যখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হচ্ছিল, তখন উপস্থিত মানুষের অভিনন্দন জানিয়ে দিচ্ছিল এক নীরব পরিবর্তনের সাক্ষ্য।
সাতক্ষীরা শহর শিবিরের নেতৃবৃন্দ বলেন, “তারুণ্যের স্পন্দনে আর সৎ নেতৃত্বের ছোঁয়ায় সাতক্ষীরা হবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ জনপদ। আজ সেই স্বপ্নের যাত্রা শুরু হলো।” সাতক্ষীরার মোড়ে মোড়ে মানুষের মুখে এখন একটাই আলোচনা-ব্যালট বিপ্লবের পর এবার কি তবে উন্নয়নের পালা? উত্তর দেবে সময়, তবে আপাতত চার প্রতীকের মিলিত শক্তিতে এক নতুন অধ্যায়ের পথে যাত্রা শুরু করল সীমান্তঘেরা এই জনপদ।