এবার দেশ গড়ার পালা—ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

এফএনএস সংবাদপ্রবাহ:
| আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম | প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
এবার দেশ গড়ার পালা—ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন যোগ দিয়ে বললেন, এবার দেশ গড়ার পালা। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন দুর্বলতা। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমি দেশের সব জনগণকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা দেশের গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছি। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি- এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, “আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং থাকব।”

দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলেন তারেক রহমান। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, মত ও পথ ভিন্ন থাকতে পারে, তবে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা”-উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর জোর দেন।

তারেক রহমান বলেন, জনমনে সৃষ্ট সংশয় কাটিয়ে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি।

সরকার-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মূলত কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে আপনাকে- এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের অর্থনীতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের অবশ্যই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিগত সরকার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করেছে। সুতরাং আমাদের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।”

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে আপনার পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থকে রক্ষা করে আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করবো।”

শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে প্রত্যর্পণ চাইবে কিনা বিএনপি এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “সেটা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।” চীন প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “তারা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। আমরা আশা করি, একসঙ্গে কাজ করার মতো জায়গা আমরা অবশ্যই তৈরি করবো।”

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের উন্নয়ন কেমন হবে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করবো। যদি এমন কিছু থাকে, যা বাংলাদেশের পক্ষে হবে না, স্বাভাবিকভাবেই আমরা তা করতে পারি না। আমি নিশ্চিত, পারস্পরিক স্বার্থই প্রথম অগ্রাধিকার, যা আমরা অনুসরণ করবো।”

বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি তা বাংলাদেশের উপকারে আসে, অর্থনীতির সহায়ক হয়, আমরা তখন সিদ্ধান্ত নেবো।” সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করবেন কিনা জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “মানুষ আমাদের সমর্থন দিয়েছেন, আমরা অবশ্যই তরুণদের কথা শুনবো। কিন্তু, এই সমাজে আরও মানুষ তো আছে। সবারই কোনও না কোনও ইস্যু আছে, আমাদের সবার কথা শুনতে হবে।”

সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে বিএনপির সরকার কাজ করবে কিনা জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, “আপনি জানেন, সার্ক প্রতিষ্ঠা করা কিন্তু বাংলাদেশের উদ্যোগ ছিল। আমরা চাই এটি সচল হোক। আমরা আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবো, আমরা চেষ্টা করবো সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, মেজর অব হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডা. এজেডম জাহিদ হোসেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আহমেদ পাভেলের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নুল আবেদিন, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ইসমাঈল জবিউল্লাহ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার নাসির উদ্দীন আহমেদ অসীম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে