ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষে প্রথম কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে দেখা মিলেছে বড় উত্থানের। রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি লেনদেন শুরুর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স শতাধিক পয়েন্ট বেড়ে যায়। শুরুতেই অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট সার্কিট ব্রেকারে পৌঁছায়, বাজারজুড়ে তৈরি হয় প্রত্যাশার তীব্র সাড়া।
চার দিনের বিরতির পর এদিন লেনদেন শুরু হতেই প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে। প্রথমে সূচক প্রায় ১৩০ পয়েন্ট বাড়ে, পাঁচ মিনিটে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৬ পয়েন্টে। তবে কিছু সময় পর কয়েকটি শেয়ারের দরবৃদ্ধির গতি কমলে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও কিছুটা শ্লথ হয়।
সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ডিএসইতে ৩৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে, কমে ১৫টির, অপরিবর্তিত থাকে ১৩টির। এ সময় ডিএসইএক্স ১১১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১১ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসই ৩০ সূচক বাড়ে ৪০ পয়েন্ট, ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক বাড়ে ১৫ পয়েন্ট। লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন সরকারের সম্ভাব্য নীতিগত দিকনির্দেশনা নিয়ে আশাবাদ থেকেই বিনিয়োগকারীরা কেনার দিকে ঝুঁকেছেন। নির্বাচনের আগে কয়েক মাস ধরে তারল্য সংকট, আস্থাহীনতা ও অনিশ্চয়তায় বাজারে স্থবিরতা ছিল। অনেক বিনিয়োগকারী সাইডলাইনে ছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পর তারা নতুন করে সক্রিয় হচ্ছেন।
লেনদেনের শুরুতেই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা ও বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে বেশি ক্রেতা দেখা যায়। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কর্মকর্তারা জানান, বিক্রেতা তুলনামূলক কম থাকায় দর দ্রুত বেড়েছে। তাদের ভাষায়, এটি নির্বাচনী অনিশ্চয়তা কাটার পর স্বস্তিজনিত উত্থান।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এও ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। সিএএসপিআই সূচক বেড়েছে ১১৯ পয়েন্ট। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৪৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৯টির দাম বাড়ে, কমে ৬টির, অপরিবর্তিত থাকে ১টির। সেখানে লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশার পাশাপাশি সুদহার নীতি, ডলারবাজারের স্থিতি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন সরকারের পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলে বাজারের এই ইতিবাচক ধারা কিছুটা স্থায়ী হতে পারে। তবে টেকসই উত্থানের জন্য করপোরেট আয় বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
দীর্ঘদিন পর বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অনেকেই আশাবাদী। তবে দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।