যশোর-১ আসনে বিএনপির ভোটে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান। এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির ত্যাগী নেতা কর্মীরা। তিনি ২০,৩৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,১১,৬৩৩ জন।এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১,৫৫,৮০৭ জন এবং নারী ভোটার ১,৫৫,৮২৩ জন ও হিজড়া ভোটার মাত্র ৩ জন। মাওলানা আজিজুর রহমান ১০২ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১,১৭,৩৭৭ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দলের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ৯৪,৯৯৫ ভোট পেয়েছেন।গড় ভোট ৬৬.৫২। শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাইমিনুল সাগর বলেন, এই আসন একটি গুরুত্বপুর্ন সংসদীয় এলাকা। কারন এখানে রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি বেনাপোল স্থলবন্দর। এখানে মোট ৪ জন প্রার্থী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। এবং ৩,১১,৬৩৩ জন ভোটারের মধ্যে ২,১৩,৪৮০ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেন। এর মধ্যে জামাতের আজিজুর রহমান ১,১৭,৩৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম ধানের শীষ এর প্রার্থী নুরুজ্জামান পেয়েছে ৯৪,৯৯৫ ভোট ইসলামী শাসনতন্ত্রর প্রাথী হাতপাখা প্রতীক পেয়েছেন ১৭৪১ ভোট এবং জাতিয় পার্টির জাহাঙীর কবির চঞ্চল পেয়েছেন মাত্র ১৩৬৭ ভোট। বিএনপির এই আসনটি হাতছাড়া হওয়ার প্রধান কারন বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি ও শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহিরের অনুসারীদের গোপনে ধানের শীষে ভোট না দিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। এই দুই নেতার মাঠ পর্যায়ের সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপির ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে বলে। ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ক্লিন ইমেজের রাজণীতিবিদ তিনি কোন সন্ত্রাসী লালন করেন না বিধায় কোন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়নি। নিজ দলের দু জন নেতার চরম বিরোধীতার করলেও তিনি ৯৪,৯৯৫ ভোট পেয়েছেন। শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির সাবেক নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তি ও শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির ধানের শীষের বিরোধীতা করে দাড়ি পাল্লায় ভোট চাওয়ায় এ আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়েছে। এই দুই নেতার ধানের শীষের বিরোধীতা করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ার অডিও ফাস হয়ে গেছে। বিষয়টি বিএনপির হাই কমান্ডকে অবহিত করে সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বেনাপোলে তৃপ্তির অনসারী যুবদল নেতা ইমদার বিরুদ্ধেও দাড়ি পাল্লায় ভোট চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বিএনপির ক্লিন ইমেজের লোকজনদের দিয়ে নতুন করে দল সাজানোর কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আসবে দ্রুতই। দল কোন চাদাবাজ,দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের স্থান থাকবে না। দলীয় হাইকমান্ড থেকে এ ধরনের লোকজন চাইছে। বিএনপির এটাই নির্বাচনী ইসতেহার। যশোর-১ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন বলেন, এই আসনে ২/৪ জন নেতার ষড়যন্ত্রে মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীদের দাড়িপাল্লায় ভোট দিতে বাধ্য করার বিষয়টি সত্য , রাজনীতিতে এটি একটি ইতিহাস। যারা বিএনপির দলীয় প্রতীককে ভালো বাসে না, যারা তারেক রহমানের প্রতীক ধানের শীষকে ভালোবাসেনা তারা দলের জন্য ক্ষতিকর।