নির্বাচনের পর সৌজন্য কূটনীতি

জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম | প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় গেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসায় পৌঁছান তিনি।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন তারেক রহমান। জামায়াত আমিরের বাসায় পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে অভিবাদন জানান ডা. শফিকুর রহমান। সাক্ষাৎটি হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দুই দলের নেতারা জানিয়েছেন। রাত ৭টা ৫৮ মিনিটের দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়ি বাসভবন ত্যাগ করতে দেখা যায়।

সাক্ষাতে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন–পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বিরোধ যেন প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ভিন্ন দল ও মতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

সাক্ষাৎ নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ডা. শফিকুর রহমান জানান, নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “আমি এ আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়।”

তিনি আরও লেখেন, “বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আজ আমার আবাসিক কার্যালয়ে এসেছিলেন। তার এ আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি তার এ আগমনকে স্বাগত জানাই এবং প্রত্যাশা রাখি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।”

জামায়াত আমির বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। জাতীয় স্বার্থে নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানেই জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকবো। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয় বরং সংশোধন, বাধা দেওয়া নয় বরং পর্যবেক্ষণ।”

এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন–পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বিরোধ যেন প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সব দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। জোটের শরিকদের আরও ৩টি আসন মিলিয়ে বিএনপি জোটের মোট আসন দাঁড়িয়েছে ২১২। একই নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংগঠকদের দল এনসিপি পেয়েছে ৬টি আসন। এই প্রেক্ষাপটে সাবেক জোটসঙ্গী জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে