নাহিদের বাসায় তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
নাহিদের বাসায় তারেক রহমান

নির্বাচন–পরবর্তী রাজনৈতিক সৌজন্য ও সংলাপের বার্তা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডে নাহিদের বাসভবনে পৌঁছান তিনি। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে দুই দলের পক্ষ থেকেই সংলাপ ও সহাবস্থানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিএনপি। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায়। জোটের শরিকদের ৩টি আসনসহ তাদের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ২১২। একই নির্বাচনে এনসিপি পায় ৬টি আসন। ঢাকা ১১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন নাহিদ ইসলাম।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাত ৮টার দিকে বসুন্ধরা থেকে বেইলি রোডের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। নাহিদের বাসায় পৌঁছে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এনসিপি আহ্বায়ক। শহীদ আনাসের ফ্রেমে বাঁধানো একটি চিঠি এবং দলীয় প্রতীক শাপলা কলির স্টিলের প্রতিকৃতিও উপহার দেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারম্যানকে।

সাক্ষাতে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির ও প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা।

আলোচনা শেষে নাহিদের বাসার নিচে সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, “জনাব তারেক রহমান ও জনাব নাহিদ ইসলাম সৌজন্য সাক্ষাতে একত্রে বসেছেন। নির্বাচনে কয়েকটি আসনের ফলাফল নিয়ে আমাদের প্রশ্ন থাকলেও রাজনৈতিক সৌজন্যের জায়গা থেকে তিনি এসেছেন। আমরা তাঁকে অভিনন্দন জানাই।”

তিনি জানান, মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। “সংস্কারের প্রশ্ন, বিচারের প্রশ্ন এবং নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার বিষয়গুলো আমরা তুলেছি। তাঁদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়েছি,” বলেন আখতার।

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বক্তব্য আলাদা হতে পারে, কিন্তু দেশের প্রশ্নে সবাই একসঙ্গে থাকব। সংলাপের মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে হবে।”

এনসিপি সরকারে যোগ দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার স্পষ্ট করেন, “এটি ছিল নির্বাচন–পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ। সরকার গঠন বা মন্ত্রিসভা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।”

নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে