বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন বলে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে যে খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সেটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আইজিপি স্বপদেই বহাল আছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন।
রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, “আইজিপির পদত্যাগ সংক্রান্ত সংবাদটি সঠিক নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, আইজিপি নাকি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কেউ কেউ আরও দাবি করেন, তিনি নীরবে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব খবরে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে প্রশাসনিক মহলেও। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গুঞ্জন নাকচ করেন বাহারুল আলম নিজেই। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “নো, এমন কিছু হয়নি। বিষয়টি ঠিক নয়।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এতে নানা জল্পনা তৈরি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা অস্বীকার করেছে পুলিশ সদর দফতর।
২০২০ সালে নিয়মিত চাকরি থেকে অবসরে যান বাহারুল আলম। পরে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেয়। সে হিসাবে তাঁর মেয়াদের এখনও কয়েক মাস বাকি রয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী তাঁকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
১৯৮৪ ব্যাচের বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন বাহারুল আলম। কর্মজীবনে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজি এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিভাগে সিনিয়র পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্ব পালনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়িয়ে জনমনে অস্থিরতা তৈরি না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।