অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে করে যাবেন। তবে শপথ শেষে ফেরার সময় সেই গাড়িতে আর জাতীয় পতাকা থাকবে না। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টাদের শপথসংক্রান্ত প্রটোকল তুলে ধরেন প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, “উপদেষ্টা যারা, তারা শপথের দিন উপস্থিত থাকবেন। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন। শপথ শেষ হলে একই গাড়িতে বাসায় ফিরবেন, তবে তখন গাড়িতে পতাকা থাকবে না।”
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে এক প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল আলম বলেন, “তাঁরা সবাই দেশেই আছেন। তাঁরা দেশের গর্বিত সন্তান। ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিতে তাঁরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেবেন।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাচনের পর আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। ওই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পতাকাবাহী গাড়িতে যাওয়া এবং পতাকা ছাড়া ফেরা প্রতীকীভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রটোকল নির্দেশ করে। এটি ক্ষমতার ধারাবাহিকতা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।